সুযোগ থাকলেও পাইপলাইন গ্যাস না নিলে ৩ মাসে বন্ধ হবে সিলিন্ডার, কেন্দ্রের নয়া নির্দেশিকায় বিতর্ক!
বর্তমান | ২৬ মার্চ ২০২৬
সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: জ্বালানি ব্যবহারে আর থাকছে না স্বাধীনতা। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে ফের নয়া নির্দেশিকা মোদি সরকারের—পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগের সুযোগ যে এলাকায় রয়েছে, সেখানে বাসিন্দাদের তা নিতেই হবে। সিলিন্ডার তাদের দেওয়া হবে না। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ভারতবাসী পাইপলাইনের গ্যাসের জন্য আবেদন না করে, তাহলে তিন মাসের মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, সিলিন্ডার আর তাকে দেওয়া হবে না। রান্নার গ্যাসের সংকট যে ক্রমবর্ধমান এবং দেশজুড়ে হাহাকার বেড়ে চলেছে, সেটা বুঝতে পেরে এখন নাগরিকদের উপরই শর্ত চাপানোর চেষ্টা করছে সরকার তথা পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। অথচ প্রকৃত তথ্য হল, ১৪৬ কোটি জনসংখ্যার ভারতে রান্নার গ্যাসের সংযোগ রয়েছে ৩৪ কোটি মানুষের কাছে। আর সেখানে পাইপলাইনের সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে মাত্র দেড় কোটি। ফলে কেন্দ্রের নয়া নির্দেশিকায় বিতর্ক চরমে উঠেছে।
পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগের পরিকাঠামো শহরে শহরে দেওয়ার কথা সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থাগুলির। তারা পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের অধীনে। বিগত ১২ বছরে রান্নার গ্যাসের সংযোগ দ্বিগুণ হয়েছে উজ্জ্বলা প্রকল্পকে যুক্ত করায়। অথচ সেই তুলনায় পাইপলাইনের গ্যাস সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। আর বর্তমানে যখন গ্যাস সংকট নিয়ে মোদি সরকার বিরোধীদের প্রবল তোপের মুখে, তখন তারা হঠাৎ তেড়েফুঁড়ে নেমেছে পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ নিয়ে। তারই অন্যতম অঙ্গ হঠাৎ এই নির্দেশিকা। এতটাই এলপিজি সংকট যে পাইপলাইনের গ্যাস অবিলম্বে দিতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। আর প্রতিটি রাজ্যকে চিঠি লিখে বলা হয়েছে, যাতে ওই সংক্রান্ত পরিকাঠামো দ্রুত গড়ে ফেলা যায়, সেই অনুমোদন দিয়ে দিতে হবে। প্রশ্ন হল, এতদিন এই অতি সক্রিয়তা দেখা যায়নি কেন?
আগামী পাঁচদিনের মধ্যেই স্কুল-কলেজ, হস্টেল, হোটেল, রেস্তরাঁয় পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। আর যেখানে ইতিমধ্যেই লাইন চলে গিয়েছে এবং সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থার প্রতিনিধিরা আবেদনের ফর্ম দিয়ে আসছে, সেখানে ফর্ম দ্রুত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। যারা করবে না, তাদের আর রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার দেওয়া হবে না। এহেন নির্দেশিকা আইনত দেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্নও উঠে গিয়েছে। কারণ, গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের সংযোগ দেওয়া হয়েছে এলপিজি সাপ্লাই অ্যান্ড রেগুলেশন আইনি অর্ডার অনুযায়ী। সরকার যদিও মরিয়া হয়ে পাইপলাইনের ইনস্টলেটশন চার্জও মকুব করতে উদ্যোগী। কিন্তু ৩৪ কোটি উপভোক্তা রাতারাতি পাইপলাইনের গ্রাহক হয়ে যাবে, এমন পরিকাঠামো তৈরি করা অসম্ভব। অতএব কেন্দ্রের এই অতি সক্রিয়তাকে বাস্তববাদী বলা যায় কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।