নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: খড়দহ বিধানসভা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু গত নির্বাচনে পুরসভা এলাকার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের ফলাফল উদ্বেগে রেখেছে ঘাসফুল শিবিরকে। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে নতুন বুথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, কাউন্সিলারদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে বসে যাওয়া পুরানো কর্মীদের মাঠে নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, উজ্জীবিত কর্মীরা এবার শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে বিপুল ভোটের লিড আনার লক্ষ্যে রাতদিন কাজ করছেন। যদিও বিরোধীদের দাবি, মানুষ তৃণমূলের কাছ থেকে সরে গিয়েছে। সবাই ভোট দিতে পারলে তৃণমূলের পরাজয় সময়ের অপেক্ষা।
খড়দহ বিধানসভার মধ্যে খড়দহ পুরসভার ২২টি ওয়ার্ড ছাড়াও পানিহাটি পুরসভার ছটি ওয়ার্ড রয়েছে। এছাড়া শহর লাগোয়া চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। তবে শহর এলাকা নিয়ে এবার অতিরিক্ত সচেতন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই প্রার্থীর জনসম্পর্ক অভিযানের আগে ইতিমধ্যে কাউন্সিলার ও বুথ কমিটি মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘোরার কাজ শুরু করে দিয়েছে। গত লোকসভা ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছে, খড়দহ পুরসভার মোট ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল মোট ন’টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে ছিল। শহর থেকে লিড এসেছিল প্রায় ২ হাজার ৪৭৭ ভোট। অন্যদিকে, পানিহাটি পুরসভার ছ’টি ওয়ার্ডের মধ্যে কেবলমাত্র ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে পিছিয়ে ছিল। বাকি পাঁচটি ওয়ার্ড থেকে প্রায় ১ হাজার ৪৫৫ ভোটের লিড এসেছিল। তাই মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের চিহ্নিত করে তাঁদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করা হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথ কমিটি ঢেলে সাজানো হয়েছে। বসে যাওয়া কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে মানভঞ্জনের কাজও প্রায় শেষ। মূলত বসে যাওয়া স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কর্মীদের কাজে লাগানো হচ্ছে। বোঝানো হচ্ছে, দল ক্ষমতায় থাকলে সবাই যোগ্য সম্মান পাবে।
খড়দহ শহর তৃণমূল সভাপতি সুকণ্ঠ বণিক বলেন, বুথ কমিটি তৈরি হয়ে গিয়েছে। সমস্ত কর্মীরা কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। দেওয়াল লিখনের কাজও প্রায় সম্পূর্ণ। দলের পুরানো দিনের সৈনিকরাও কাজে নেমেছেন। খড়দহে আমরা বিপুল ভোটে জিতব। সিপিএম প্রার্থী দেবজ্যোতি দাস বলেন, খড়দহের মানুষ ন্যূনতম পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। সামান্য পানীয় জল কিনে খেতে হচ্ছে। পুরসভার জল খেয়ে কত মানুষ ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত। উড়ালপুলের যানজটে মানুষের সময় নষ্ট হচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, খড়দহ চিরকাল মন্ত্রী তৈরির কারখানা হয়ে রয়ে গিয়েছে। এত নেতা খড়দহবাসীর ভোটে জিতে মন্ত্রী হলেন। তাঁরা খড়দহবাসীর জন্য উড়ালপুল, পরিশুদ্ধ জল, নিকাশির ব্যবস্থা করতে পারেনি। খড়দহের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করেনি। সার্কিট ট্যুরিজম, জলপথে কলকাতা পর্যন্ত সরাসরি যাতায়াতের ব্যবস্থাও করেনি। এবার তৃণমূলকে হারাতে শহরবাসী সংকল্প করেছেন।