• শোভাবাজার কাঁসারি বাড়ির অন্নপূর্ণা, সোনার অলঙ্কারে সাজিয়ে বেদীতে অধিষ্ঠানের নিয়ম
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর কলকাতার শোভাবাজার হাটখোলায় কাঁসারি বাড়ির দেবী অন্নপূর্ণাকে সোনার অলঙ্কার পরিয়ে অধিষ্ঠান করার রীতি। মূর্তি আসার পর বাড়ির মহিলারা ধূপ ও মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে শঙ্খ ও উলুধ্বনি দেন। তারপর প্রতিমাকে বাড়ির দোতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। জ্বালানো হয় ঝাড়বাতি। কাঁসারি বাড়ির অন্নপূর্ণা পুজোয় অন্নভোগ হয় না। বলি হয় না। দেবীকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় নাড়ু, লুচি, সুজি, মালপো, ফল ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। গোবিন্দভোগের চালের বড়ো নৈবেদ্য। হোমে নিবেদন করা হয় দু’টি ঝুনো নারকেল। প্রতিমা নিরঞ্জন হয় শোভাবাজার গঙ্গার ঘাটে। 

    এই বাড়ির প্রবীণ মানুষরা জানান, ‘একসময় এই বাড়ির পুজোয় আড়ম্বর ছিল। সময়ের সঙ্গে তাতে ভাটা পড়েছে। তবে আচারে ছেদ পড়েনি।’ এই পরিবারের সদস্য অনিতা গুইন (দাস) বলেন, ‘বহুবছর আগে তাঁর দাদা দেবব্রত দাস এক বাড়িতে গিয়ে ছিলেন অন্নপূর্ণার পুজোয়। সেখানে আরতি দেখে বিভোর হয়ে পড়েন। বাড়ি ফিরে সিদ্ধান্ত নেন অন্নপূর্ণার পুজো করবেন। প্রথম বছর পুজো হয়েছিল ছ’ফুটের প্রতিমায়। পর্দা, ফুল‑মালা‑আলো দিয়ে সাজানো হয়েছিল বাড়ি। ভোগ খেয়েছিলেন প্রায় চারশো মানুষ।’ অনিতাদেবীর স্বামী নিতাইকৃষ্ণ গুইন বলেন, ‘এখনও শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন দেবী দর্শন করতে। তাঁরা প্রসাদ পান।’ দেবব্রতবাবুর ভাইপো শুভাশিস দাস এই পুজোয় মুখ্য ভুমিকা পালন করছেন। পুজোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুজোয় মায়ের কাছে নিবেদন করা হয় নানা মিষ্টি। সে কারণে বাড়িতে ভিয়েন বসানো হয়। কিন্তু এবার গ্যাস সংকটের কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। বাইরে থেকে আনা হবে মিষ্টি। প্রতিমার রূপের কোন হেরফের ঘটে না। এবার প্রতিমা শিল্পী প্রশান্ত পাল।’
  • Link to this news (বর্তমান)