১০টি তেলবোঝাই জাহাজ ‘উপহার’ পাঠিয়েছে ইরান, দাবি করলেন আপ্লুত ট্রাম্প
বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
দুবাই: তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে আমেরিকা। হামলা, পাল্টা হামলায় তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। এরই মাঝে ইরান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কখনও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছেন, আবার কখনও ইরানকে ‘পাগল দেশ’ বলে দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ফের তেমনই একটি মন্তব্য করে বিভ্রান্তি আরও বাড়ালেন তিনি। এদিন এক লাইভ স্ট্রিমে ট্রাম্প জানান, ইরানের কাছ থেকে বড়ো উপহার পেয়েছে আমেরিকা। কী সেই উপহার, তা খোলসা করতে গিয়ে দৃশ্যতই আপ্লুত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ওরা আমাদের ১০টি তেলবোঝাই জাহাজ পাঠিয়েছে।’ ইরান যে সমঝোতা করতে রাজি, তার প্রমাণ দিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ওই জাহাজগুলিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেই দাবি করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি জানান, জাহাজে পাকিস্তানের পতাকা রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পাক-মধ্যস্ততার কারণেই যে এটি সম্ভব হয়েছে, সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন ট্রাম্প। প্রসঙ্গত, এই ‘উপহার’ বিষয়টি নিয়ে অবশ্য দিন দু’য়েক আগে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ‘একটা খুব বড়ো, প্রচুর টাকার উপহার আসছে।’ তবে, সেটা কী, তা অবশ্য সেদিন স্পষ্ট করেননি তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, সমঝোতার আসতে ইরান মরিয়া হয়ে উঠেছে। যদিও তা মানতে নারাজ ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে বন্ধু মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্রগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রস্তাব যে এসেছে, তা স্বীকার করছেন তিনিও। আরাঘচির বক্তব্য, যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে আসা প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ঠিকই। তবে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্দেশ্য আমাদের নেই। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সুর চড়িয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের সেনাবাহিনী মুছে গিয়েছে। ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই। সমঝোতার জন্য আমেরিকার কাছে এখন ‘ভিক্ষা’ করছে ওরা। অথচ প্রকাশ্যে বলছে, আমাদের দেওয়া প্রস্তাবগুলি শুধুমাত্র খতিয়ে দেখছে ওরা। ডাহা মিথ্যা। ইরানের আলোচনাকারীরা খুবই ‘জটিল ও অদ্ভূতুড়ে’। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকি, যত দ্রুত সম্ভব ওরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিক। সময় পেরিয়ে গেলে ফল সুখকর হবে না। এর আগে সরকারি টেলিভিশনে আরাঘচি বলেছেন, বন্ধু দেশগুলির মাধ্যমে আমাদের কাছে বার্তা পাঠানো হচ্ছে। সেই মোতাবেক আমরাও আমাদের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছি। আবার ওদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। এটাকে আর যাই হোক, কোনোভাবেই আলোচনা বলা চলে না।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ঘুরপথে আলোচনার এই প্রক্রিয়ায় শামিল হয়েছে পাকিস্তানও। সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দাবি, পাকিস্তানের অনুরোধ মেনে ইজরায়েল তাদের হিটলিস্ট থেকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফের নাম বাদ দিয়েছে।