• অতিথি বলে দাগাচ্ছে রাম-বাম, পাত্তা না দিয়ে উন্নয়নই প্রচারের অভিমুখ অতীনের
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি কাশীপুরের খগেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রোড থেকে বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে রিজেন্ট সিনেমা মোড়ে রোড শো শেষ করলেন তৃণমূলের কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের প্রার্থী অতীন ঘোষ। সে এক বিশাল আয়োজন। আড়ে-বহরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি। চিড়িয়ামোড় থেকে সোজা কাশীপুর রোড ধরে এগতেই রেললাইনের ধারে সিমেন্টের গুদামের ধুলো-দূষণ পেরতে হয়েছে তাঁকে। এলাকায় উন্নয়ন হলেও এই ধুলো-দূষণ তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতার কাছে খানিকটা ‘অস্বস্তি’র। কারণ নানা চেষ্টা করেও এই পরিস্থিতির বদল ঘটানো যায়নি গত পাঁচ বছরে। তবুও বিকল্প কিছু করার চেষ্টা ছাড়ছেন না অতীন ঘোষ। 

    বিবি বাজারে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের অদূরেই প্রচার করছিলেন বিজেপি প্রার্থী রীতেশ তিওয়ারি। তাঁকেও কাশীপুর রোডের রেল সাইডিংয়ের পথ ধরেই প্রচারস্থলে আসতে হয়েছে। দোকান, বাড়ি, বস্তি অঞ্চলে ঘুরে জনসংযোগ করেন তিনি। রীতেশের কথায়, ওখানে যা অবস্থা, বিধায়ক চাইলে পরিস্থিতি পালটাতে পারতেন। কিন্তু তিনি কিছুই করেননি। আমরা জিতে এসে এই কাজ করব। আমি এই এলাকার ভূমিপুত্র। এলাকার মানুষের কষ্ট জানি। তৃণমূল প্রার্থী তো এখানে অতিথি! এলাকায় কে ক’দিন দেখেছেন তাঁকে, তা হাতে গুনে বলা যাবে। বিজেপির সুর বামের গলাতেও। সিপিএম প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্ত ২ নম্বর ওয়ার্ডের সব্জিবাগানে প্রচার করতে করতে বলছিলেন, এলাকায় কোনো কাজই হয়নি। বিধায়ককে এলাকায় দেখাই যায় না। তাই, ‘অতিথি’কে ছেড়ে ঘরের ছেলেকে সমর্থন করুন। 

    যদিও রাম-বামের এই ‘অতিথি’ তত্ত্বকে পাত্তা দিতে নারাজ অতীন। তাঁর কথায়, আমি বহিরাগত নাকি অতিথি, এসব ফালতু কথা। এলাকার পাঁচ জায়গায় বিধায়কের অফিস রয়েছে। সব জায়গাতেই আমি যাই। বিভিন্ন প্রয়োজনে লোকজন সেখানে আসেন। জনসংযোগে আমি সব সময় রয়েছি। অতীন ঘোষের কথায়, মানুষ জানে কী হয়েছে, কতটা পরিবর্তন এসেছে। উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী। একদিকে রয়েছে বিধায়ক তহবিলের অর্থে গত পাঁচ বছরে কাজের খতিয়ান ও ওয়ার্ডভিত্তিক কাজের ফিরিস্তি, অন্যদিকে আগামীর পরিকল্পনা। 

    টালা ব্রিজের নীচে বাসস্ট্যান্ড, এস-৬৯ বাস সার্ভিস চালু করা কিংবা দমদমের কয়েক দশকের সমস্যা মিটিয়ে নিকাশি পাইপলাইন পাতার কাজ থেকে নর্থ সুবার্বান হাসপাতালের মানোন্নয়ন, একে একে উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে চলেন অতীন। তাঁর কথায়, যাঁরা আমাকে অতিথি বলছেন, তাঁরা জানেন না, গত কয়েক বছরে পাড়ায় পাড়ায় কতগুলি স্বাস্থ্য শিবির হয়েছে। ৩০ হাজার মানুষের চক্ষু পরীক্ষা হয়েছে। তিন হাজার মানুষ চশমা পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অঞ্চলের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তা পানীয় জল থেকে নিকাশি সবটাই চোখের সামনে দেখছেন মানুষ। আর জনতা? পাইকপাড়ার বাসিন্দা সুকুমার ঘোষ বলেন, রাস্তাঘাটের উন্নতি হয়েছে। এলাকায় পরিচ্ছন্নতাও এসেছে। জমা জলের সমস্যা অনেকটাই কমেছে। নতুন করে কাজ হচ্ছে। পাইকপাড়ার পরিবেশ-পরিস্থিতি পালটেছে। গুলি-বোমা-মারপিটের দিন কেটেছে। তবে, কিছু সমস্যা রয়েছে। হাতের পাঁচ আঙুল সমান হয় না। কিছু মানুষের জন্য কারও কারও ইমেজ নষ্ট হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)