নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রামনবমীর পুজো ঘিরে উত্তাপ ছড়াল ক্যাম্পাসেও। বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একাধিক জায়গায় রামনবমীর পুজো হয়েছে। সেখানে বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের পালটা স্লোগানে উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। শান্ত করতে ছুটে আসতে হয় উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে। অন্যদিকে, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ভিতরে পুজো করার অনুমতি পাননি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। তাই তাঁরা কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের গেটেই রামনবমীর পুজো করেন। এদিন যাদবপুরে ত্রিগুণা সেন সভাঘরের উলটোদিকে এবং প্রযুক্তি ভবনের নীচে, দু’টি জায়গায় রামনবমীর পুজো হয়েছে। সকাল ১১টা নাগাদ রামমূর্তি নিয়ে ঢোকেন আরএসএসের ছাত্রশাখা এবিভিপির সদস্যরা। ন্যাশনালিস্ট স্টুডেন্টস ফ্রন্ট নামে একটি জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও পুজো করেছেন। পুজোর মধ্যেই ক্যাম্পাসে ‘জয় শ্রী রাম ধ্বনি’ ওঠে। পালটা বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা এসে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ধ্বনি দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। সেই সময় উপাচার্য এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। আয়োজকদের দাবি, তাঁদের কাছে মৌখিক অনুমতি ছিল। উপাচার্য তা অস্বীকার করেছেন। রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল অবশ্য জানান, অনুমতি দেওয়া হয়নি, আবার বাধাও দেওয়া হয়নি। বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের দাবি, অনুমতি নিয়ে দুর্গাপুজো, সরস্বতী পুজো ক্যাম্পাসে হয়ে থাকে। তবে, রামনবমীর অনুমতি ছিল না। তাঁদের বক্তব্য, রামনবমী নিয়েও আপত্তি নেই। তবে, এই পুজো ঘিরে সাম্প্রদায়িক উত্তাপ সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। সেখানেই বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। অন্যদিকে, পুজোর আয়োজকদের মধ্যে অনেকেই বহিরাগত বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্যাম্পাসে একের পর এক কাণ্ডের জেরে বহিরাগতদের ঢোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বহিরাগতরা ঢোকায় প্রশ্ন উঠেছে। উপাচার্য কড়া নজরদারির আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। তা না হলেও ক্যাম্পাসে সরস্বতী পুজো ছাড়া অন্য কোনো পুজোর অনুমতি নেই। ছাত্রছাত্রীরা গেটের বাইরে পুজো করেছেন। ফলে এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য নেই।