• ছোটো ডন হিসাবে পরিচিত জিৎ, একাধিক অভিযোগ পাটুলি থানায়
    বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাটুলির বাসিন্দা জিৎ মুখোপাধ্যায় এলাকায়  ছোটো ডন হিসেবে পরিচিত। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ভয় দেখানো, তোলাবাজি, পুলিশকে মারধর সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে জিতের বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তার শাগরেদকে কেস দেওয়ায় সার্জেন্টের পিছু ধাওয়া করে মারধর ও আর্মস ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ। পাটুলি ছাড়াও সোনারপুর, নরেন্দ্রপুর থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ধরা পড়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবার অপরাধ শুরু করেছে। এমনকি নরেন্দ্রপুর, সোনারপুর এলাকায় তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একাধিক সাট্টার ঠেক।

    বাঘাযতীনের পূর্ব ফুলবাগানে খুন কাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ জেনেছে অবৈধ কারবারের দখল নিয়ে মিমাংসার জন্য জিৎ ডেকে পাঠিয়েছিল জয়ন্ত ঘোষকে। ঘটনায় জখম হয়েছে জিৎ। এই জিতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ঝুলে রয়েছে বিভিন্ন থানায়। তদন্তে উঠে এসেছে এলাকায় মস্তান হিসাবে পরিচিত বলে জিতের অনুমতি ছাড়া পাটুলি এলাকায় কোনো জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা যায় না। এলাকায় প্রোমোটার থেকে শুরু করে বাড়ির মালিক কেউ ফ্ল্যাট বা বাড়ি বিক্রি করতে চাইলে জিৎকে ডাকতে হয়। তাকে মোটা টাকা তোলা দিলে তবে দখল নেওয়া যায় সম্পত্তির। কেউ টাকা না দিতে চাইলে তুলে এনে চলে মারধর। এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখায়। এই সমস্ত অভিযোগে তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করেছে পাটুলি থানা। কিন্তু কোনো এক দাদার মাথার হাত থাকায় অনায়াসে জামিন পেয়ে বেরিয়ে এসেছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মাসে পাটুলি মোড়ে সিগন্যাল ভাঙায় কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট কেস করেন। খবর পৌঁছানো মাত্র গাড়ি নিয়ে সার্জেন্টের পিছু ধাওয়া করে তাঁকে মারধর করে বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে তাঁর অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ জিতের দাপটে সকলে আতঙ্কিত থাকেন। বারবার অপরাধ করেও কীভাবে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু তোলাবাজি নয়, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুরে অন্তত গোটা দশেক সাট্টার ঠেক চালাচ্ছে এই অভিযুক্ত। সেখান থেকে নগদ টাকা পাচ্ছে প্রতিদিন। এই টাকা দিয়েই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছে জিৎ। তার সঙ্গে কয়েকশো ছেলে রয়েছে। জানা গিয়েছে, যারা জিতের দেহরক্ষীর কাজ করে। তাদের মাধ্যমেই প্রতিদিন টাকা তোলে এই সাট্টার ঠেকগুলি থেকে। এই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও কোনো এক অজানা কারণে সুরাহা তো দূর রমরমিয়ে চলছে এই ঠেকগুলি। 
  • Link to this news (বর্তমান)