• বিজেপির মিছিলে হামলা এবং পুলিশকে মারধরের ঘটনায় সাসপেন্ড বাসন্তী থানার আইসি! তদন্তেরও নির্দেশ কমিশনের
    আনন্দবাজার | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • বাসন্তীকাণ্ডে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সংশ্লিষ্ট থানার আইসি অভিজিৎ পালের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। বিজেপি প্রার্থীর প্রচারের সময় পুলিশকে মারধরের ঘটনায় বাসন্তী থানার আইসিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। অভিজিতের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করতেও বলা হয়েছে। শুক্রবার অভিজিতের জায়গায় প্রবীর ঘোষকে বাসন্তী থানার আইসি-র দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। বাসন্তীর ঘটনায় দু'টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানাল নির্বাচন কমিশন।

    বৃহস্পতিবার বাসন্তীতে ভোটপ্রচারে বেরিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার। সেখানে অতর্কিতে হামলার অভিযোগ ওঠে। তৃণমূল-বিজেপির ওই অশান্তি থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ। রাস্তায় ফেলে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম হন এসআই। মারখান পাঁচ জন কন্সস্টেবল। ওই ঘটনায় তৃণমূল এবং বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ শুরু করে। তার মধ্যে বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু ভোটপ্রচারে এই অশান্তি এবং সর্বোপরি পুলিশের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।

    বাসন্তীর ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের সমস্ত পুলিশ সুপার (এসপি) এবং পুলিশ কমিশনারকে জরুরি নির্দেশ পাঠায় তারা। তাতে বলা হয় এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে শুরুতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে। এই মর্মে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত থানার ওসিকে নির্দেশ পাঠানো হয় বলে কমিশন সূত্রে খবর। এ-ও বলা হয়, প্রয়োজনে থানার ওসি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী আইন মেনে বল প্রয়োগ করতে পারবে।

    বাসন্তীর অশান্তির প্রেক্ষিতে বিবিধ প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের অন্দরেই। কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী দেরিতে ঘটনাস্থলে গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ‘গোয়েন্দাদের ব্যর্থতা’ নিয়ে রাজ্যের ডিজির কাছে রিপোর্ট তলব করে কমিশন। কমিশন জানতে চায়, অনেক বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও কেন মাত্র ২ সেকশন বাহিনী আনা হয়েছিল? কেন বাহিনী ডাকতে দেরি হল? অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে মিছিল হল? কমিশন জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৮ জন গ্রেফতার হয়েছে। তার পরেই আইসি-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হল।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)