• কলকাতা বন্দর নিয়ে মত নেওয়া হবে বিশেষজ্ঞদের
    আনন্দবাজার | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • কলকাতা বন্দরের নাব্যতা কমে যাওয়া নিয়ে নদী বিশেষজ্ঞদের মতামত নেবে সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)। রাজনৈতিক সূত্রের মতে, আজ কমিটির বৈঠকে বিষয়টি হিমঘরে চলে যাচ্ছিল। কমিটির সদস্য তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় হস্তক্ষেপ করে এই সংক্রান্ত রিপোর্টটি পুনর্বিবেচনার দাবি তোলেন। কমিটি তাঁর মন্তব্য মেনে নিয়েছে।

    সূত্রের খবর, আজ সিএজি-র রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অ‍্যাকশন টেকন নোট’(এটিএন) নিয়ে পিএসি-তে আলোচনা হয়। সেখানে সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, কমিটির মূল রিপোর্টে দ্ব্যর্থহীন ভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, কলকাতা বন্দরের নাব্যতা কমে যাওয়ায় ৬ বছরে (২০১৩-১৯) ১৪১৯.৭০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। নাব্যতা কমে যাওয়ায় ৪৫.২৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন মালপত্র নিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারেনি। তাই পিএসি জরুরি ভিত্তিতে হুগলি ও গঙ্গা নদীর দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি ড্রেজ়িং বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করার সুপারিশ করে।

    কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা জলবণ্টন সংক্রান্ত চুক্তির ফলে গঙ্গা ও হুগলির পাড়ে ব‍্যাপক ভাঙন ঘটেছে। এর ফলে ড্রেজ়িংয়ের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এই সমস্যার কথাই ওই রিপোর্টে লেখা হয় এবং সেটি মেনে নিয়েই কমিটি সরকারের এটিএন গ্রহণ করতে উদ‍্যত হয়। জানা গিয়েছে, সে সময় বৈঠকে সুখেন্দুশেখর তীব্র আপত্তি জানিয়ে বিষয়টি মুলতুবি রাখার দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, বৈঠকে যাঁরা বসে রয়েছেন, তাঁরা কেউই নদী বিশেষজ্ঞ নন। সমস্যার গভীরে যেতে হলে নদী বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে। কমিটি সুখেন্দুর বক্তব্য মেনে নেয়।

    এটা ঘটনা যে, দীর্ঘদিন গঙ্গায় ড্রেজ়িং না হওয়ায় সঙ্কট বাড়ছে। তার ফলে হাওড়া-কলকাতা জলপথে লঞ্চ চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় মাঝেমধ্যেই বিঘ্ন ঘটছে ফেরি পরিষেবায়। লঞ্চ চালক ও কর্মীদের আশঙ্কা, এ ভাবে চলতে থাকলে খুব শিগগিরই গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ পরিবহণ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দর সূত্রের খবর, ১৮৭০ সালে পথচলা শুরু করে কলকাতা বন্দর। অতীতে একাধিক বার হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরের নাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আগের অর্থবর্ষের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ২০০ কোটি টাকার লভ্যাংশ কমেছে। দীর্ঘদিন ধরে হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরে ‘ক্যাপিটাল ড্রেজ়িং’ হয়নি। এ দিকে, কেন্দ্রীয় সরকার বার বার আত্মনির্ভর হওয়ার বার্তা দিয়েছে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)