• নৌকা নিয়ে গঙ্গায় ঘুরে মন্দির থেকে চুরি, পুলিশের জালে চার
    আনন্দবাজার | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • তাদের কাজ ছিল নৌকা নিয়ে সারা রাত গঙ্গায় ঘুরে কোনও একটি বা একাধিক ঘাটের ধারে থাকা বিভিন্ন মন্দির থেকে বিগ্রহের গয়না, প্রণামীর টাকা, বাসনপত্র-সহ নানা জিনিস চুরি করা। কিন্তু কিছুতেই চোরেদের নাগাল পাচ্ছিল না পুলিশ। শেষমেশ হুগলি চটকল সংলগ্ন ঘাটের একটি মন্দির থেকে চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নৌকাটিকে চিহ্নিত করতে সমর্থ হন তদন্তকারীরা। ওই নৌকাটি যার কাছে ছিল, তাকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে আরও তিন জনের নাম। গ্রেফতার করা হয় তাদেরও।

    পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম মহম্মদ রনিশ সর্দার, মহম্মদ তাজমুল, মহম্মদ জহিদুল এবং শেখ নুর হাসান। শুক্রবার তাদের আলিপুরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হলে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃত চার জনের কাছ থেকে বিভিন্ন মন্দিরের চুরি যাওয়া বিগ্রহের গয়না-সহ একাধিক জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে বলে আদালতে দাবি করেছেন মামলার তদন্তকারী অফিসার।

    তদন্তকারীরা জানান, নৌকাটি প্রায় ২০ ফুট লম্বা এবং আট ফুট চওড়া। তাতে রয়েছে একটি ডিজ়েল ইঞ্জিন। রাতে ওই নৌকা নিয়ে গঙ্গাবক্ষে ঘুরে বেড়াত চার দুষ্কৃতী। সুযোগ বুঝে যে কোনও একটি বা একাধিক মন্দির থেকে সব কিছু চুরি করত।

    কী ভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্তেরা? আদালত সূত্রের খবর, গত ২৫ মার্চ ভোরে হুগলি চটকল সংলগ্ন ঘাটের একটি মন্দির থেকে বিগ্রহের রুপোর মুকুট-সহ বহু গয়না, বাসনপত্র ও প্রণামীর টাকা চুরি যায়। পরের দিন ওই মন্দিরের পুরোহিত পশ্চিম বন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

    তদন্তে নেমে গঙ্গা সংলগ্ন এলাকার একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা দেখেন, একটি নৌকা মাঝরাত থেকে গঙ্গার বিভিন্ন ঘাট সংলগ্ন মন্দিরের কাছে গিয়ে নোঙর করছে। এর পরেই ওই নৌকাটিকে চিহ্নিত করা হয়। জানা যায়, সেটি রয়েছে উত্তর বন্দর থানা এলাকার বাসিন্দা রনিশের কাছে। তখন রনিশকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। জেরায় ওই অভিযুক্ত চুরির কথা স্বীকার করে এবং জানায়, তার সঙ্গে আরও তিন জন রয়েছে। তদন্তকারীদের কথায়, গঙ্গার ধার বরাবর প্রচুর মন্দির রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সে সব মন্দির থেকে গয়না, নগদ টাকা ও বাসনপত্র চুরি যাওয়ার অভিযোগ আসছিল।

    এ দিন আদালতে সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘কলকাতা শহরে নৌকা নিয়ে চুরি আগে শোনা যায়নি। অভিযুক্তেরা আরও কত মন্দির থেকে এই কায়দায় চুরি করেছে, তা জানা দরকার।’’ যার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক বলেন, ‘‘এখন এমন পরিস্থিতি হয়েছে, যেখানে দুষ্কৃতীরা যা পাচ্ছে, চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।’’

    মামলার তদন্তকারী অফিসার লিখিত আবেদনে আদালতে জানিয়েছেন, চার অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর হলে গোলমাল বাধার আশঙ্কা রয়েছে। সওয়াল শেষে বিচারক চার অভিযুক্তকে পয়লা এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠান।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)