আচ্ছে দিন! মোদি জমানায় বন্ধ ৩ লক্ষ স্টার্ট আপ-এমএসএমই
বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৬
সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ‘আমার রক্তে বিজনেস।’ গর্ব করে এমনটাই প্রচার করে থাকেন নরেন্দ্র মোদি। তাই বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও সাধারণ মানুষকে ‘উৎসাহ’ দিয়েছিলেন, ব্যবসা করুন। গালভরা ঘোষণা ছিল, ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া’। বিরোধীদের দাবি ছিল, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ কমাতেই ঘুরপথে ‘নিজেই নিজের পথ খুঁজে নাও’ কৌশল। স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া প্রকল্পে সরকার ঋণের ব্যবস্থা করে দেয় ঠিকই। কিন্তু আদতে কী হাল স্টার্ট আপ-এর? ১০ বছরের খতিয়ানই বা কী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, প্রচার মুখেই। ‘আচ্ছে দিন’ কিন্তু স্টার্ট আপে আসেনি। উপরন্তু ধস নেমেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পেও (এমএসএমই)। অন্তত সরকারি রিপোর্ট সেটাই বলছে।
সংসদে পেশ হওয়া বাণিজ্য মন্ত্রকের বিভিন্ন জবাব ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ডিপার্টমেন্ট ফর প্রোমশন অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেডের (ডিপিআইআইটি) হিসাব মোতাবেক, গোটা দেশে অনুমোদিত স্টার্ট আপের সংখ্যা ২ লক্ষ ১২ হাজার ২৮৩টি। কিন্তু এর মধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৬ হাজার ৭৮৯টি। নরেন্দ্র মোদি স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া প্রকল্প শুরু করেছেন ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি। দশ বছরেই মুখ থুবড়ে পড়েছে তাঁর এই উদ্যোগ। এর প্রধান কারণ কী? দেশের আর্থিক পরিস্থিতি। আর সেটা স্বীকার করেছে সরকারই। স্টার্ট আপ যদি ‘আশ্বাসের পুকুর’ হয়, তাহলে সমুদ্র কিন্তু এমএসএমই। মোদি জমানায় নোট বাতিল, ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি, কোভিড পর্বে পরিকল্পনাহীন—একের পর এক রাজ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প। সরকারি নথিই বলছে, গত ছ’বছরে বন্ধ হয়েছে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার এমএসএমই। ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়ে’র ঝুলিতে আরও আছে। সবই সরকারি নথিতে লিপিবদ্ধ। ব্যবসার জন্য নাম নথিভুক্ত করেও গত পাঁচ বছরেই নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে বহু সংস্থা। রেজিস্টার অব কোম্পানির তথ্য মোতাবেক, ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ২৯৫টি কোম্পানি সরে এসেছে। তারা ব্যবসায় উৎসাহ পাচ্ছে না। ফলে সব মিলিয়ে ৩ লক্ষ ৩৩ হাজর ৮৪টি সংস্থা বন্ধ—বলছে পরিসংখ্যান।
সরকারি তথ্য মোতাবেক, গোটা দেশের স্টার্ট আপের মধ্যে ৪৮ শতাংশই হয় মহিলা পরিচালিত, না হলে তাতে মহিলাদের অংশীদারি রয়েছে। অথচ এ ধরনের স্টার্ট আপও বন্ধ হয়ে গিয়েছে ২ হাজার ৯৫০টি। ফলে বিষয়টি ক্রমশ উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে ছুটছে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত। সবচেয়ে বেশি বন্ধ হয়েছে আইটি (ইনফরমেশন টেকনোলজি) সংক্রান্ত স্টার্ট আপ—৮৭৫টি। এরই পাশাপাশি শিক্ষা সংক্রান্ত ৪৯১টি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত ১৫৬, কৃষি সংক্রান্ত ৩০১টি। ফুড অ্যান্ড ব্রেভারেজের মতো ৩২০টি স্টার্ট আপও আর চালিয়ে যেতে না পেরে তালা পড়ে গিয়েছে।
অ্যানিমেশন, আর্কিটেকচার, কম্পিউটার, কনস্ট্রাকশন, ফ্যাশন, ফিনান্স, মার্কেটিং, মিডিয়া, রিটেল, রোবোটিক্স, টয়, টেকনোলজি, ট্রান্সপোর্ট সহ ৫৫ ধরনের স্টার্ট আপের অধিকাংশই বন্ধ হতে বসেছে। ফলে মোদি এবং তাঁর তল্পিবাহকরা যতই ঢাক পেটান না কেন, সরকারি তথ্যই প্রচার-ফানুস ফুটো করে দিয়েছে।