• ‘নন্দীগ্রাম এ বার সহজ’! কেন্দ্রীয় মন্দ্রী ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন শুভেন্দু, সঙ্গী হলেন দিলীপও
    আনন্দবাজার | ৩০ মার্চ ২০২৬
  • মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার পথে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গী হলেন দিলীপ ঘোষ। হলদিয়ার মহকুমাশাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা দিয়ে নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর দাবি, রোড শো’য়ে জনসমাগম এবং আবেগ দেখে তাঁর মনে হচ্ছে, এখনই তাঁকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে চান মানুষ। রোড শো’য়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং খড়্গপুর সদরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ তাঁর সঙ্গী হওয়ায় দুই নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    সোমবার দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুরে শোভাযাত্রা করে নন্দীগ্রাম, মহিষাদল এবং হলদিয়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে যান হলদিয়ায়। শোভাযাত্রায় প্রার্থীদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র থেকে দিলীপ। তার আগে সকালে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় পুজো দেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী। হলদিয়ার কদমতলায় বিজয় সংকল্প সভা করে মনোনয়ন জমা দিয়ে শুভেন্দু জানিয়েছেন, এ বার নন্দীগ্রামের ভোট-লড়াই তাঁর কাছে আরও সহজ। তিনি ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তোপ দাগেন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি এ-ও জানান, নন্দীগ্রামে তাঁর জয় সহজ এবং ভবানীপুর আসলে বিজেপিরই।

    শুভেন্দু বলেন, ‘‘ধর্মেন্দ্রজি রোড শো দেখে বলছিলেন, ‘ইস বার তিন গুণ হোগা।’ আসলে লোক চাইছে এখনই গিয়ে ইভিএমের বোতাম টিপে দিতে। মনে হচ্ছে যেন আগামিকালই ভোট। মানুষ আর এক মুহূর্ত অপশাসন চাইছেন না।’’ নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক তাঁর কেন্দ্র নিয়ে বলেন, ‘‘২০২১ সালে ভোটের পাটিগণিতের হিসাবে নন্দীগ্রাম ‘টাফ’ (কঠিন) ছিল। তখন নন্দীগ্রামে ৬৪ হাজার মুসলিম ভোট ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (গত বার নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী) তাঁদের ভুল বুঝিয়েছিলেন। তিনি সিএএ-কে এনআরসি বলেছিলেন। এখন মুসলিমরা বুঝে গিয়েছেন। তাঁরা এ-ও বুঝে গিয়েছেন, মোদীজি আছেন। অতএব সুশাসন-সুরক্ষা তাঁরা পাবেন। মুসলিমরা ওঁদের চক্করে আর পড়ছেন না। আর হিন্দুরা আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই নন্দীগ্রাম এখন আরও সহজ।’’

    এ বার দুই বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু জানান, ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে লড়াইও তাঁর কাছে কঠিন নয়। তাঁর কথায়, ‘‘এসআইআরের পরে ভবানীপুর তো বিজেপির হয়েই গিয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি জেতার পর ভবানীপুরে বিজেপির প্রখম জিতবে এমনটা নয়। ২০১৪ সালে যখন মোদীজি প্রথম বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তখন দক্ষিণ কলকাতায় তথাগত রায় প্রার্থী হয়েছিলেন। তখন ভবানীপুর বিধানভায় বিজেপির লিড ছিল ২ হাজার। ওখানে অনুপ্রবেশকারী, ভুয়ো ভোটারদের দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে জিততেন। এসআইআরের পর আর সেটা আর সম্ভব নয়।’’

    মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়ে শুভেন্দু জানিয়েছেন, আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি নন্দীগ্রাম তথা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় থাকবেন। প্রথম দফার ভোট মিটলেই ২৪ তারিখ সকাল থেকে তিনি চলে যাবেন কলকাতা। তাঁর কথায়, ‘‘তখন থেকে ভবানীপুরে থাকব। ২৯ তারিখে মমতাকে হারানোর কাজ শেষ করে স্ট্রং রুম সিল করে ভবানীপুর ছাড়ব। তার পর ৪ তারিখ দেখা হবে।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)