• পুরসভাকে উত্তর কলকাতার নির্বাচনি কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত, স্বাধীনতার পর প্রথমবার দৈনন্দিন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা
    বর্তমান | ০৫ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার! কমিশনের বেনজির সিদ্ধান্তের ফলে এবার কলকাতা পুরসভার নিয়ন্ত্রণ বকলমে চলে গেল কমিশনের হাতে! কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া না মেটা পর্যন্ত কলকাতা পুর কমিশনারের দপ্তর (কলকাতা পুরসভা) উত্তর কলকাতার নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তর হিসাবে কাজ করবে। বর্তমানে কলকাতা পুরসভার কমিশনার পদে আছেন আইএএস অফিসার স্মিতা পাণ্ডে। পদাধিকার বলে তিনিই উত্তর কলকাতার নির্বাচনি আধিকারিক হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। উল্লেখ্য, চলতি নির্বাচনে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন জানায়, কলকাতা পুরসভার কমিশনারই উত্তর কলকাতার ডিইও হিসাবে কাজ করবেন। 

    পুরসভা যেহেতু কমিশনের অফিস হিসাবে কাজ করবে, তাই পুরসভার নিত্যনৈমিত্তিক কাজের জন্যও এবার থেকে কমিশনের অনুমতি নিতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর এই ধরনের নির্দেশ এই প্রথম। এর ফলে পুরসভার অধিবেশন বা কোনো সভা বা বৈঠক করতেও কমিশনের অনুমতি লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশনের এহেন সিদ্ধান্তের ফলে নাগরিক পরিষেবা পুরোপুরি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সামান্য গাছ কাটতে হলে, বাড়ির জঞ্জাল পরিষ্কার করতে বা বিশেষ কোনো উদ্যোগ নিতে হলেও কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। যদিও পুর কমিশনারের তরফে বিবৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, নাগরিকদের জন্য ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু তাতেও আশ্বস্ত হতে পারছেন না নাগরিকরা। 

    কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় বলেন, ‘গত ৫৪ বছর ধরে রাজনীতি করছি। ১৯৭৭ সাল থেকে নির্বাচনের কাজে যুক্ত। কলকাতা পুরসভা একটি স্বশাসিত  সংস্থা। তাকে এভাবে নির্বাচনি কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করা যায় না বলেই জানি। বিশেষ আইন রয়েছে। কোনো বিপর্যয় হলে পুরসভা কাজ করে। এক্ষেত্রে মেয়রকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষমতাকেও কুক্ষিগত করার চেষ্টা হচ্ছে। নাগরিক পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছি।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)