গ্যাস সংকট, শহর ছেড়ে গ্রামে পাড়ি দিচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকরা
বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
পাটনা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে ভারতবাসীর হেঁশেলেও। রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। তার উপর চলছে কালোবাজারিও। তার জেরে নাভিশ্বাস পরিযায়ী শ্রমিকদের। দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো শহর থেকে নিজেদের গ্রামে ফিরছেন তাঁরা। এই তালিকায় রয়েছেন বিহারের শ্রমিকরাও। যেমন পুনপুনের বাসিন্দা ৩২ বছরের এক শ্রমিক। গত আট বছর দিল্লিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন তিনি। কিন্তু রান্নার গ্যাসের সমস্যার জেরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে ফিরতে হল তাঁকে। তিনি বলছেন, ‘গ্যাসের দাম এত বেড়েছে, দিল্লিতে আর টিকে থাকা সম্ভব নয়। প্রতি কেজি গ্যাসের দাম ৩০০-৩৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। গ্রামে থাকলে অন্তত উনুনে কাঠ বা ঘুঁটে পুড়িয়ে রান্না করা যাবে।’ পাটনা জংশন স্টেশনে নেমে একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন জেহানাবাদের এক বাসিন্দাও। তিনি কোভিড পর্বের পর দিল্লিতে কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন। সব খরচ চালিয়ে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বাঁচত। কিন্তু এখন অনেক বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। মাত্র পাঁচ কেজির একটি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরতে ৭০০-৮০০ টাকা লাগছে। অনেক সময় তাও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পৈতৃক ভিটেয় ফিরে যাচ্ছি। গাজিয়াবাদ থেকে ফেরা রাজমিস্ত্রী মনোজ কুমার বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার এখন অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই দৈনিক ৫০০ টাকা ইনকামে ওখানে টিকে থাকা সম্ভব নয়। লুধিয়ানা থেকে ফেরা এক রংমিস্ত্রিও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। শুধুই কি শ্রমিক। একই সমস্যার মুখে পড়ে ফিরতে হচ্ছে পড়ুয়াদেরও। এক ইউপিএসসি পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, ‘খাওয়ার খরচ গত দু’মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। পড়াশোনার থেকে গ্যাস জোগাড় করতেই বেশি সময় চলে যাচ্ছিল। তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। মুম্বইতেও রাস্তার ধারের বহু খাবারের হোটেল ও রেস্তরাঁ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে অনেককেই গ্রামে ফিরতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কোভিড পর্বের মতো পরিযায়ী শ্রমিকদের গ্রামে ফেরার ঢল নামতে পারে বলে আশঙ্কা বিভিন্ন মহলের।