লোকসভার আসন বৃদ্ধির প্রস্তাব গণ বিভ্রান্তির অস্ত্র, দাবি কংয়ের
বর্তমান | ০৬ এপ্রিল ২০২৬
নয়াদিল্লি: ৫৪৩ থেকে ৮১৬! লক্ষ্য, উত্তরপ্রদেশ সহ বড়ো রাজ্যগুলিতে লোকসভা আসন বাড়িয়ে নিজেদের জায়গা মজবুত করা। এই উদ্দেশ্য পূরণ করতে আদা-জল খেয়ে লেগে পড়েছেন মোদি ও গেরুয়া ব্রিগেড। লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব নিয়ে এমনই অভিযোগে বিরোধীদের। বিধানসভা ভোটের মুখে দক্ষিণের রাজ্যের প্রচার মঞ্চ থেকে এব্যাপারে আশ্বাসবার্তা দিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু আসল চিত্রটা ভিন্ন। রবিবার এমনই দাবি করে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ শানাল হাত শিবির। এই প্রস্তাবকে গণবিভ্রান্তির অস্ত্র বলেও কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের অভিযোগ, পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়া এসংক্রান্ত প্রস্তাব চাপিয়ে দিতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে এর প্রভাব সম্পর্কেও জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। তাঁদের দাবি, আসন বাড়ানোর ক্ষেত্রে যে পদ্ধতির কথা বলা হচ্ছে, তাতে লোকসভায় বহু ছোট রাজ্যের প্রভাব কমবে। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রমেশের অভিযোগ, ‘প্রধানমন্ত্রী বরাবরের মতো এব্যাপারে বিভ্রান্তিকর বিবৃতি দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন। তিনি বলছেন, যদি লোকসভায় ৫০ শতাংশ আসন বাড়ানো হয় তাহলে রাজ্যগুলির আসন সংখ্যাও একই হারে বাড়লে দক্ষিণের রাজ্যগুলির কোনো ক্ষতি হবে না । কিন্তু তথ্য বলছে অন্য কথা। একটি উদাহরণ দিলেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে লোকসভা আসন ৮০টি। কেরলে আসন সংখ্যা ২০। দুই রাজ্যের মধ্যে আসনের ফারাক এখনই ৬০। এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ আসন বাড়লে সিটের পার্থক্য বেড়ে হবে ৯০। একইভাবে উত্তরপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর মধ্যে সিটের ফারাক ৪১ থেকে বেড়ে হবে ৬১ হবে। এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। আসলে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে জোর করে একটি প্রস্তাব চাপিয়ে দিচ্ছেন মোদি। এর জেরে শুধুমাত্র বৃহত্তর ও জনবহুল রাজ্যগুলি সুবিধা পাবে। দক্ষিণ ভারতের পাশাপাশি পঞ্জাব ও হরিয়ানা সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও ফারাকটা বড়োসড়ো। এখন লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গের আসন সংখ্যা ৪২টি। উত্তরপ্রদেশের ৮০টি। দুই রাজ্যের মধ্যে আসনের ফারাক ৩৮। ৫০ শতাংশ বাড়লে দুই রাজ্যের লোকসভা আসনের ফারাক বেড়ে হবে ৫৭টি।