মুম্বই: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সমালোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রেউড়ি রাজনীতির কথা তুলেছিলেন। কিন্তু মহারাষ্ট্র, দিল্লি হোক বা মধ্যপ্রদেশ— বিজেপি শাসিত সর্বত্রই মমতার দেখানো পথে চলছে প্রকল্পের নামে ভাতা দেওয়া। বিনামূল্যে রেশন থেকে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ প্রদান। তালিকা দীর্ঘ। কিন্তু গদিতে বসার পর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়েই হাঁসফাঁস অবস্থা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির। মমতার পশ্চিবঙ্গ যেখানে দক্ষতার সঙ্গে রাজকোষ ভরাট রেখে প্রকল্প চালু রেখেছে, সেখানে বিজেপি শাসিত রাজ্যের ভাঁড়ার ক্রমে শূন্য হচ্ছে। বাড়ছে ঋণের বোঝা। তথ্য বলছে, লাডলি বহেনা চালাতে গিয়ে মধ্যপ্রদেশের ভাঁড়ারের বেহাল দশা। ঋণের পরিমাণ বিপজ্জনক সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। অন্যদিকে, বিপাকে পড়ে রেশন কিট প্রকল্প বন্ধ করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। তথ্য ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি রাজ্যে প্রকল্প বাবদ এই আর্থিক বোঝা রাজ্যের মোট রাজস্বের প্রায় ৩০-৪০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। হিমাচলের মতো ছোটো রাজ্যেও নগদ অর্থের টান পড়েছে। এর জেরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ বিধায়কদের ভাতা প্রদানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রদেশে লাডলি বহেনা চালাতে গিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে সেখানকার বিজেপি সরকার। কারণ জিএসডিপি-র তুলনায় রাজ্যের ঋণ ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ শতাংশ হয়েছে। একই অবস্থা মহারাষ্ট্রের। লাড়কি বহিন প্রকল্প চালাতে গিয়ে উৎসবের সময় রেশন কিট প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, একসঙ্গে দু’টি প্রকল্প টেনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, এর পিছনের হিসাবটা খুবই সরল ও স্পষ্ট। আসলে ভোটে জিততে ভূরি ভূরি ঘোষণা করা হচ্ছে। কিন্তু রাজ্যের আয় তথা রাজস্বের পরিমাণ সে তুলনায় অনেকটাই কম। মধ্যপ্রদেশে লাডলি বহেনা, বিনামূল্যে সিলিন্ডার ও বিদ্যুৎ বিলে ছাড় বাবদ বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাজস্ব সে তুলনায় অনেকটাই কম। অন্যদিকে, বিজেপি শাসিত রাজস্থানে প্রকল্প বাবদ খরচের বোঝা ৬০ হাজার কোটি টাকা। অগত্যা রাস্তা, জল সহ একাধিক খাতে প্রায় ২৮ শতাংশ বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিনামূল্যের স্যানিটারি প্যাড দেওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।