বাইরে থেকে টাকা, মাদক, অস্ত্র ঢুকছে, যত চক্রান্ত হোক, একচুল জমি ছাড়বেন না: মমতা
বর্তমান | ০৭ এপ্রিল ২০২৬
অগ্নিভ ভৌমিক, বেথুয়াডহরি: ‘একুশ ও চব্বিশের নির্বাচন বিজেপিকে বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলায় জনগণের রায়ে ভোট জেতা মুশকিল। আর তাই এবার নানারকম ফন্দিফিকির হাতিয়ার করেছে পদ্ম শিবির। এসআইআর করে ভোটারদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পর, এবার টাকা, অস্ত্র, ড্রাগস বাইরে থেকে বাংলার ঢোকানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য, নির্বাচনে বাংলাকে অশান্ত করা। বাংলার মানুষের উপর হামলা করা।’ সোমবার নদীয়ার নাকাশিপাড়া ও শান্তিপুরে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা থেকে এইভাবেই বিজেপিকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে, পদ্মশিবিরকে ‘সবচেয়ে বড়ো ঘুসপেটিয়া’ বলে সম্বোধন করেন তিনি। বিজেপির ‘চক্রান্ত’ রুখে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বাংলার মা-বোনদের এগিয়ে এসে ‘গণতন্ত্রের থাপ্পড়’ দিতে বলেন। তিনি বলেন, ‘বিজেপির সঙ্গে আছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আমার সঙ্গে আছে মানুষ।’ কেউ ‘ভোট আটকাতে এলে, গণ্ডগোলে না গিয়ে, ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে ভোট দেওয়ার নিদান দেন মুখ্যমন্ত্রী। ইভিএম মেশিনে কারচুপি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর গ্রাম আটকানো, অধিকার রক্ষায় কোনোভাবে জমি ছাড়া যাবে না। মঞ্চ থেকে সাফ জানিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও এক হাত নেন তিনি।
নাকাশিপাড়ার জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাসে করে লোক নিয়ে আসছেন। যাতে নাকা চেকিং না হয়। ট্রেনে ড্রাগ নিয়ে ঢুকছে। সরকারি ফ্লাইটে টাকার বান্ডিল আসছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি টাকা নিয়ে ঢুকছে বিজেপির কাছে। আর্মস নিয়ে ঢুকছে। মনে রাখবেন আমাদের কাছে প্রমাণ আছে। প্রমাণ ছাড়া আমি বাজে কথা বলি না। সময় মতো ভিডিও ক্যাসেট বার করে দেব।’ তারপরেই সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলায় বিজেপির ঠাঁই নাই। বাংলার মানুষ বিজেপিকে কোনোদিন মানবে না।’
তিনি বলেন, ‘ভোট সিআরপিএফকে দিতে দেবেন না। বিহারে ওরা ছাপ্পা মেরেছে। আবার বলছে, বুথ এজেন্ট বাইরে বসবে। আর ভিতরে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী?’ সেইসঙ্গে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মাথায় রেখে দেবেন, ‘বেশি কথা বললে, গণতন্ত্রের কাঠগড়ায় ঝুলিয়ে দেব।’ এরপর তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী বলেছে মেয়েদের শরীর চেক করা হবে। মেয়েদের গায়ে হাত দিলে, আগে ভোট দেবেন তারপর প্রতিবাদ করবেন। ওরা গণ্ডগোল পাকিয়ে ভোট নষ্ট করার চেষ্টা করবে।’
শান্তিপুরের সভা থেকে ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের নাম করে যদি আপনাদের কাছে গিয়ে কেউ বলে আপনার ব্যাংকের অ্যাকাউন্টটা দিন, আপনার ব্যাংকে টাকা পাঠাব। ভুলেও দেবেন না। যা আছে সেটাও চলে যাবে। নতুন অ্যাকাউন্ট খুললে, কারও কালো টাকা পাঠিয়ে দেবে। তারপর ইডি সিবিআই পাঠিয়ে দেবে।’
রবিবার কোচবিহারের জনসভায় মোদির মুখে শোনা গিয়েছিল অনুপ্রবেশ তত্ত্ব। সোমবার তার পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীর বলেন, ‘বর্ডার আমরা দেখি না। সেটা কেন্দ্রীয় সরকার দেখে। পাসপোর্ট, কাস্টমস, আইটিবিপি, সিআরপিএফ, প্লেন, রেল কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। ওড়িশা, রাজস্থানে, উত্তরপ্রদেশে বাংলায় কথা বললে মারে। নির্বাচনের সময় ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন করবে? ডেমোগ্রাফি যদি কেউ পরিবর্তন করে থাকে সেটা বিজেপি করেছে। বিজেপির হাতেই সমস্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী আছে।’
এসআইআরের নাম বাদ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সাল পর্যন্ত ভোট দিয়েছে। ২০০২ সালেও নাম রয়েছে। সব বাদ দিয়ে দিয়েছে। মেয়েরা বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছে। নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। ঠিকানা পরিবর্তন করলেও নাম বাদ দিয়েছে। উকুনের মতো বাছাই করেছে। কোনটা কোনটা তৃণমূলের আসন, সেখান থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার নাম বাদ দিয়েছে।’
একইসঙ্গে বিজেপির মেরুকরণের অস্ত্রকে ভোঁতা করতে, জেলাজুড়ে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন ‘নবদ্বীকে হেরিটেজ টাউন করছি। কৃষ্ণনগরে ‘সরতীর্থ’ করেছি। কল্যাণী এইমস তৈরি করার জন্য আমরা বিনা পয়সায় ১০০ একর জমি দিয়েছি। ৩০০ কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা করেছি। নাকশিপাড়া, কালীগঞ্জে সরকারি ডিগ্রি কলেজ হয়েছে।’