• গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চাইছে বিজেপি, এক সুর বিরোধী শিবসেনা-আপ-সপার
    বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী কাল ভোট কেরল ও অসমে। স্বাভাবিকভাবেই মঙ্গলবার শেষ দিনের প্রচারে দুই রাজ্য চষে ফেলল বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়ায় সকাল থেকেই দিনভর সেই প্রচার ও ডাবল ইঞ্জিনের সাফল্যের বহু খতিয়ান দেওয়া হল। কিন্তু সেসবের মধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হল, ‘বাংলায় এবার খেলা শেষ তৃণমূলের। এবার পরিবর্তন হচ্ছে।’ সোমবার মধ্যরাতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের ‘বিচারাধীন’ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটার। সব মিলিয়ে আগের ভোটার লিস্ট থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে ৯১ লক্ষ নাম। ঠিক তারপরই বিজেপির উচ্ছ্বসিত ঘোষণায় চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছে বিরোধীরা। প্রশ্ন উঠছে, এই আত্মবিশ্বাসের কারণ কী? এতদিন এভাবে ঘোষণা করা হয়নি কেন? ভোটার বাদ দেওয়ার এই ইস্যুতে তূণমূল তথা রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে উদ্ধবপন্থী শিবসেনা, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টির (আপ) মতো দলগুলি। প্রত্যেকেরই এক সুর—গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চাইছে বিজেপি।

    উদ্ধবপন্থী শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত এদিন বলেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঘিনী। তিনি ২০১৪ সাল থেকে লাগাতার নরেন্দ্র মোদিকে পরাজিত করেছেন। এবার গণতন্ত্র হত্যা করে ভোট সম্পন্ন করতে মরিয়া বিজেপি। এবারও তিনি একা‌ই লড়ে যাবেন। আমরা সম্পূর্ণভাবে তাঁর পাশে আছি।’ আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ বলেছেন, ‘একটি রাজ্যের ভোটার সংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ মানুষকেই বাদ দিয়ে যে ভোট হয়, সেটি আর যাই হোক গণতন্ত্র নয়।’ সমাজবাদী পার্টি থেকে রাষ্ট্রীয় জনতা দল প্রত্যেকেই বলেছে, বৈধ ভোটারদের অবৈধ ঘোষণা করার এই প্রক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট, বিজেপি নিশ্চিত যে তারা আর সাধারণ ভোটে জয় পাবে না। কমিশন এবং বিজেপি একজোট হয়ে দেশের বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এর থেকে দুঃসময় আর আসেনি ভারতে। 
  • Link to this news (বর্তমান)