• ২০১৪’র প্রাথমিক টেটের প্রশ্নে ভুল, হাইকোর্টের রায়ই বহাল , অতিরিক্ত ৬ নম্বর সব পরীক্ষার্থীকেই, ৪ মাসে মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশ
    বর্তমান | ০৮ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেটের (টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট) প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার জের। সব পরীক্ষার্থীকেই অতিরিক্ত ৬ নম্বর দিতে হবে। এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশই মঙ্গলবার বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি অলক আরাধের বেঞ্চ জানিয়ে দিল, হাইকোর্টের নির্দেশের উপর হস্তক্ষেপ করছি না। তাই ওই বছরের প্রাথমিক টেটে বসা শিক্ষকতার চাকরিপ্রার্থীদের অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে আগামী চার মাসের ম঩ধ্যে মেধাতালিকা প্রকাশ করবে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। যদিও এতে যাঁরা ওই বছরের টেট দিয়ে চাকরি পেয়েছেন, তাদের উপর কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু যাঁদের শিক্ষকতার বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, ১২ বছর পর তাঁরা এই অতিরিক্ত নম্বর পেয়ে কী করবেন? সেটা স্পষ্ট নয় বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত। 

    এদিনের শুনানিতে সবাইকে অতিরিক্ত ৬ নম্বর দেওয়ার বিষয়টিতে আপত্তি করেন পর্ষদের আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত। তিনি বলেন, শুধুমাত্র যারা ওই ছ’টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তাদেরই অতিরিক্ত ছ’ নাম্বার পাওয়া উচিত। যদিও মামলাকারীদের আইনজীবী পি এস পাটওয়ালিয়া বলেন, প্রশ্নের উত্তর ভুল বুঝলেও নেগেটিভ মার্কিংয়ের আশঙ্কায় অনেকেই উত্তর এড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে যখন পর্ষদই জানিয়েছে, প্রশ্নের উত্তর ভুল ছিল, তখন কেন সব পরীক্ষার্থীই তা পাবে না? টেট পাশ মানেই প্রাথমিকে চাকরি পেয়ে যাওয়া নয়। স্রেফ চাকরির ইন্টারভিউতে বসার একটি যোগ্যতা মাত্র। ফলে পর্ষদ কেন আপত্তি করছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। বিচারপতি নরসিমা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, ‘শিক্ষকরা দেশ গড়ার অন্যতম কারিগর। কিন্তু ইদানীং তাদের বিষয়েই ঠিক মতো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাই শিক্ষকতার চাকরিতে আগ্রহীদের সুযোগ করে দিতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যে নির্দেশ দিয়েছে, তার মধ্যে কোনো ভুল নেই। আমরা রাজ্যের আবেদন খারিজ করছি।’

    এপ্রসঙ্গে সন্ধ্যায় পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল বলেন, ‘আমাদের নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি ছিল না। বেশ কিছু প্রার্থীকে আদালতের নির্দেশে তা দেওয়াও হয়েছিল। কিন্তু কেন ওএমআর শিটের ডিজিটাল কপির ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে যায় ২০১৭ সালের টেট-উত্তীর্ণ প্রার্থীদের একাংশ। আদালতের নির্দেশে সবাইকেই নম্বর দেওয়া হবে। যাঁদের বয়স রয়েছে, তাঁরা পরবর্তী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে ডাক পাবেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)