• খড়্গপুর পুনরুদ্ধারে জোর অভিষেকের, দিলেন একসঙ্গে চলার বার্তাও
    বর্তমান | ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর ও সংবাদদাতা, খড়্গপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এসআইআরে বিচারাধীন ৫০ হাজারেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। এনিয়ে যখন জেলা জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। ঠিক সেই উত্তপ্ত আবহেই সংগঠনকে আঁটসাঁট করতে মেদিনীপুরে ক্লোজডোর বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও সাংগঠনিক দুর্বলতাকে সামনে রেখে এই বৈঠকে শুধুই রুটিন সংগঠনিক পর্যালোচনা হয়নি। বরং এই বৈঠককে আসন্ন নির্বাচনের আগে কৌশল নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে জানাচ্ছেন তৃণমূলের নেতারা। মেদিনীপুর ও ঘাটাল, এই দুই সাংগঠনিক জেলা নিয়ে হওয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সাংসদ জুন মালিয়া ও দীপক অধিকারী (দেব)। এদিনের বৈঠকে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের খুঁটিনাটি রিপোর্ট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সংগঠনের শক্তি, দুর্বলতা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। তবে এই বৈঠকে শুধু পর্যালোচনাতেই থেমে থাকেননি তৃণমূলের নম্বর দুই। স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, যে নেতা বা কর্মী মাঠে ভালো কাজ করবেন, তাঁদের জন্য থাকবে স্বীকৃতি। ফলে সংগঠনের ভেতরে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ খড়্গপুর গ্রামীণের রূপনারায়ণপুর এলাকায় নামে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার। সেখান থেকে তিনি একটি বেসরকারি হোটেলে বৈঠকে যোগ দেন। সেই হোটেলে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন দলীয় নেতারা। প্রথমে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার বৈঠক শুরু হয়। সূত্রের খবর, প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন বিধানসভা ভিত্তিক রিভিউ রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। রিভিউ বৈঠকের সময়ই নিজেদের মধ্যে কোন্দল ভুলে একসঙ্গে চলার বার্তা দেন অভিষেক। এরপর প্রার্থীদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। এমনকী, বিক্ষুব্ধ নেতাদের বিষয়েও খোঁজখবর নেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, বৈঠক চলাকালীন কেশিয়াড়ির কল্পনা শিটের সঙ্গে বেশকিছু সময় ধরে কথা বলেন অভিষেক। সেই সময় তাঁদের মধ্যেও কথা কাটাকাটি হয় বলে খবর। যদিও কল্পনা দেবী বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে একসঙ্গে চলার বার্তা দিয়েছেন। কথা কাটাকাটির কথা যাঁরা বলেছেন, তাঁরা হয়তো বদনাম করার জন্য বলছেন। অপরদিকে, নারায়ণগড় বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট গরহাজির ছিলেন। প্রশ্ন ওঠে, দলীয় নেতৃত্ব বলার পরেও তিনি কেন বৈঠকে যোগ দেননি। তবে কি তিনি বিরোধী শিবিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে রেখেছেন। এনিয়ে সূর্যকান্ত বলেন, আপনাদের পত্রিকাকে কেন জবাব দেব! বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

    তৃণমূল সূত্রে খবর, মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার একমাত্র খড়্গপুর সদর আসনটিই বিজেপির দখলে রয়েছে। এদিন সেই আসন পুনরুদ্ধারে জোর দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, খড়্গপুর সদরের প্রার্থী প্রদীপ সরকার, তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা এবং মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া, সকলকে এক হয়ে লড়াই করার বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। সেই সঙ্গে বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায় এবং রেলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের যে ক্ষোভ রয়েছে, তাও কাজে লাগানোর নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। বৈঠক থেকে বেরিয়ে প্রদীপ সরকার বলেন, নেত্রী এবং সেনাপতিকে এবার খড়্গপুর সদর আসন আমরা উপহার দেব। আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছি।

    মেদিনীপুর ও ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা ও অজিত মাইতি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পর সকলেই আত্মবিশ্বাসী। আমাদের জয় আসবেই। একইসঙ্গে এবার খড়্গপুর সদর আসন আমরা পুনরুদ্ধার করবই।
  • Link to this news (বর্তমান)