• রাজ্য থেকে দিল্লি গেল না কোনও সহযোগিতার বার্তা, পিএনজি পরিকাঠামো নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সেই তিমিরেই
    আনন্দবাজার | ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে পাইপবাহিত রান্নার গ‍্যাসের পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে আলাদা করে জোর দিয়েছে কেন্দ্র। এই সুবিধা নিলে ১০% অতিরিক্ত বাণিজ্যিক গ্যাস বণ্টনের কথাও বলা হয়। কিন্তু তার পরে এক মাস কেটে গেলেও পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোনও প্রস্তাব বা সহযোগিতার বার্তা দিল্লিতে যায়নি। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বলেছিলেন, ‘‘১৮টি রাজ‍্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অতিরিক্ত সিলিন্ডারের জোগান দিচ্ছি। কারণ, তারা এই নিয়ম মেনে কাজ করছে।’’ এই ১৮টি-র মধ্যে বাংলা নেই।

    গত ১৮ মার্চ পাইপ গ্যাস (পিএনজি) নিয়ে সব রাজ্যকে চিঠি দিয়েছিল কেন্দ্র। গৃহস্থালির পাশাপাশি, সরকারি হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, হোটেল, রেস্তরাঁ, কমিউনিটি কিচেন, অঙ্গনও‍য়াড়ি কেন্দ্রে আগে পাইপ গ্যাসের সংযোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দিল্লি, মুম্বই-সহ একাধিক শহরে এই পরিকাঠামো থাকায় মার্চে তারা বড় সমস‍্যায় পড়েনি। কিন্তু কলকাতায় এই গ্যাস প্রায় নেই।

    সুজাতা জানান, পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে আসেনি। তবে এ রাজ‍্যে যে সংস্থাগুলি কাজ করছে, তাদের আরও দ্রুতগতিতে এগোতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রক। যদিও রাজ্যের বাস্তব চিত্র বেশ আলাদা। কলকাতা শহর ও সংলগ্ন এলাকায় এই পরিষেবার বরাত রয়েছে বেঙ্গল গ‍্যাস কোম্পানির হাতে। সংস্থার সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায় জানান, বর্তমানে কল‍্যাণী, বারাসত, শ‍্যামনগর, ব‍্যারাকপুরে কাজ হচ্ছে। কিন্তু চন্দননগরে কাজ বন্ধ। পাশাপাশি, কলকাতায় রাস্তা খোঁড়ার খরচের হার ঠিক না হওয়ায় মাত্র ৩.৫ কিলোমিটার লাইন পাতা গিয়েছে। রাজ‍্য প্রশাসন সূত্রের খবর, ভোটের কারণে এখন কাজ হচ্ছে না। যা হবে, ৪ মে-র পরে। যদিও সুজাতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোটমুখী তামিলনাড়ু ও কেরল থেকে এই পরিকাঠামো নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ফলে তারা সব সুবিধা পাচ্ছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে বাণিজ‍্যিক বা গৃহস্থালি সিলিন্ডারের সমস‍্যা অনেকটাই মিটেছে বলে দাবি তেল সংস্থাগুলির।

    উল্লেখ্য, বিভিন্ন শহরে থমকে থাকা ২৫টি পাইপ গ্যাস প্রকল্প নিয়ে গত মাসের শেষে দিল্লিতে বৈঠক করেছিল কেন্দ্র। সেখানে বেঙ্গল গ‍্যাস, চন্দননগর পুর কর্তৃপক্ষকে রাজ্যের নগরোন্নয়ন সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে ওই অঞ্চলে প্রকল্পের জট ছাড়াতে বলে পেট্রলিয়াম ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক। ৩০ মার্চ রাজ্যের তৎকালীন নগরোন্নয়ন দফতরে প্রধান সচিব গোলাম আলি আনসারির সঙ্গে বৈঠকে বসে গ্যাস সংস্থাগুলি। সেখানে পাঁচটি সংস্থার প্রতিনিধিরা এলেও চন্দননগর, কলকাতা বা পুর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা ছিলেন না। ফলে শহর কলকাতা ও আশপাশে এই পরিষেবা চালু সেই তিমিরেই।

    যদিও কেন্দ্র বারবার বলা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গে কেন কাজ এগোচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে সব মহলেই। এক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্তার আক্ষেপ, “ভোটকে সামনে রেখে কার্যত কাজ বন্ধ। রাজ্যের কিছু অঞ্চলে সামান‍্য সংযোগ রয়েছে। বাংলায় পাইপ গ‍্যাস চালু হতে অন্তত তিন বছর লাগবে।” অনুপমের দাবি, “শুধু সরকারকে নির্দেশ দিলেই হবে না। মানুষকেও গুরুত্ব বুঝে এগিয়ে আসতে হবে।”

    ইতিমধ্যেই এই গ‍্যাসের পরিকাঠামো শহরে কী অবস্থায় আছে তা জানতে চেয়ে বেঙ্গল গ‍্যাসের সঙ্গে বৈঠক করেছে রেস্তরাঁগুলির সর্বভারতীয় সংগঠন। ইন্ডেন এলপিজি ডিলারদের পক্ষে বিজন বিশ্বাসের মতে, আগে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এই পরিকাঠামো গড়া জরুরি। সূত্রের খবর, বর্তমানে শহরের রেস্তরাঁগুলিকে ৭০% পর্যন্ত সিলিন্ডার পেতে তেল সংস্থাগুলিকে লিখিত ভাবে জানাতে হচ্ছে, এলাকায় পাইপ গ‍্যসের পরিকাঠামো তৈরি হলেই সেই সংযোগ নেবে তারা। এখন কোন পথে বিষয়টি এগোয়, সে দিকেই নজর সকলের।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)