বিহারে কুর্সিবদলের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পাটনার ১ অ্যানে মার্গের সরকারি বাসভবনে শনিবার বৈঠকে বসেন শাসক জেডিইউ বিধায়করা। দলীয় সূত্রে খবর, প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠকে মূলত রাজ্যে পরবর্তী সরকার গঠনের ব্যাপারে আলোচনা করেন তাঁরা। ১৩ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী পদে নীতীশের আনুষ্ঠানিক ইস্তফা দেওয়ার জল্পনা রয়েছে। তার আগেই তিনি সরকারি বাসভবন থেকে আসবাবপত্র সমেত যাবতীয় ব্যক্তিগত সামগ্রী ৭ সার্কুলার রোডের বরাদ্দ হওয়া ঠিকানায় সরিয়ে নিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর সেখানেই থাকবেন তিনি।
ইতিমধ্যে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়ে সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য হিসাবে শপথ নেওয়াও হয়ে গিয়েছে নীতীশের। ৩০ মার্চ তিনি বিহার বিধান পরিষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। এদিকে পাটনার বাপু সভাঘরে রবিবার রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে পান তফসিলি জাতি গোষ্ঠীর। সেখানে বিরোধী জোটের দলগুলির শামিল হওয়ার কথা। পান গোষ্ঠীর নেতা ইন্দ্রজিৎপ্রসাদ গুপ্তা সহর্ষ কেন্দ্রের ইন্ডিয়ান ইনক্লুসিভ পার্টির বিধায়ক। এই কর্মসূচিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও থাকতে পারেন বলে খবর। বিহারে মুখ্যমন্ত্রী বদলের আগে বিরোধী জোটের এই সম্মেলনের দিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।
ঝাঁঝারপুরের জেডিইউ সাংসদ নীতীশ মিশ্র জানিয়েছেন, বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী যে বিজেপির কেউ হবেন, তা প্রায় পরিষ্কার এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী হবেন নীতীশের ছেলে নিশান্ত কুমার। জেডিইউ এর আরেকজনও উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন। শোনা যাচ্ছে, পাটনা ফেরার আগে নীতীশ দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষনেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন। পাটনায় ১৩ এপ্রিল তিনি এনডিএ বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকও করতে পারেন। এদিকে নীতীশের জায়গায় রামবিলাস পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টির চিরাগ পাসওয়ানের মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে থাকার জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি নিজেই। চিরাগ বলেছেন, সবই প্ল্যানমাফিক, পূর্ব সিদ্ধান্তমতো চলছে।
বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই নিয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। তবে পাল্লা ভারী সম্রাট চৌধুরির দিকে। বিজেপি বিধায়ক গত দু’বছর ধরে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী। মাত্র ৯ বছর আগে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েই তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এছাড়াও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওবিসি মন জয়ের চেষ্টায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইকেও বসিয়ে দেওয়া হতে পারে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে। যাদবরাও খুশি হতে পারে এই সিদ্ধান্তে।