কর্মরত ও পেনশনভোগী উভয়েই সমান হারে ডিএ-র অধিকারী! তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
প্রতিদিন | ১২ এপ্রিল ২০২৬
মুদ্রাস্ফীতির জেরে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী কর্মচারী-উভয়েই সমান সমস্যায় পড়েন। এক্ষেত্রে সরকার কোনও ভেদাভেদ, বৈষম্য করতে পারে না। মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় মহার্ঘভাতা (ডিএ) বাড়ানোর সময় সরকারের কোনও বাছবিচার করা চলে না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।
অবসর নেওয়া কর্মচারীদের সমানাধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে রায় দিয়েছে বিচারপতিদ্বয় মনোজ মিশ্র ও প্রসন্ন বি ভারালেকে নিয়ে গঠিত সর্বোচ্চ আদালতের বেঞ্চ। এব্যাপারে কেরল সরকার ও কেরল রাজ্য পথ পরিবহণ নিগমের আবেদন খারিজ করে বেঞ্চ জানিয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সমানভাবে আঘাত করে। বিচারপতি মিশ্র রায়ে লিখেছেন, সমানাধিকার একটি গতিশীল ধারণা। এর নানা দিক, মাত্রা আছে। একে প্রচলিত ধারণায় সীমাবদ্ধ রাখা যায় না।
ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে সমানাধিকার স্বেচ্ছাচারিতার পরিপন্থী। বস্তুত সমানাধিকার ও স্বেচ্ছাচারিতা একে অপরের বিপরীত। একটি আইনের শাসন মেনে চলে, অপরটি চরম কর্তৃত্ববাদী শাসকের ইচ্ছা, মর্জির জোরে চলে। রায়দানের সময় সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনেছে বেঞ্চ।
২০২১-এ কেরল সরকার মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় কেরল পথ পরিবহণ নিগমের কর্মীদের ১৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিলেও পেনশনারদের মাত্র ১১ শতাংশ ডিয়ারনেস রিলিফ ঘোষণা করে। কেরল হাই কোর্টে মামলা করেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা। এক বিচারপতির বেঞ্চ তাঁদের আবেদন বাতিল করে। যদিও ডিভিশন বেঞ্চে জয় হয় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের। তারই বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে যায় কেরল সরকার ও রাজ্য পথ পরিবহণ নিগম।