• দলে থেকে ভোট কাটার ‘রাজনীতি’ রেয়াত নয়, কেশিয়াড়ির জনসভায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখতে বার্তা মমতার
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সৌম্যকান্তি ত্রিপাঠী, কেশিয়াড়ি: শনিবার কেশিয়াড়ির কুসুমপুরে জনসভা থেকে দলীয় কর্মীদের অন্তর্ঘাত ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখতে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল প্রার্থী রামজীবন মাণ্ডির সমর্থনে কুসুমপুরের রাবণ মাঠে এই সভা হয়। সেখানে মমতা স্পষ্ট বলেন, ‘যাঁরা দলের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁদের যোগ্য সম্মান দেওয়া হবে। তবে যাঁরা দলে থেকে ভোট কাটার রাজনীতি বা দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন, তাঁদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না।’ কর্মীদের উজ্জীবিত করতে তিনি বলেন, ‘কে প্রার্থী তা ভুলে যান। মনে রাখবেন, ২৯৪টি কেন্দ্রেই আমি প্রার্থী। সরকারটা আমিই গড়ব।’

    এদিনের সভায় তৃণমূল নেত্রী কেশিয়াড়িকে আদিবাসীদের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে উল্লেখ করেন। সেইসঙ্গে এলাকায় আরএসএস-এর গতিবিধি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কেশিয়াড়িতে আরএসএস-এর ঘাঁটি রয়েছে। সেখানে বন্দুক চালানো সহ নানা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তার সব খবরই আমি রাখি।’ দলের সংহতি বজায় রাখতে তিনি বিদায়ী বিধায়ক পরেশচন্দ্র মুর্মু ও নতুন প্রার্থীর হাত মিলিয়ে দেন। এই দু’জনের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই বলে জানান।

    সভার শেষদিকে কেশিয়াড়ির প্রয়াত তৃণমূল নেতা জগদীশচন্দ্র দাসের কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলের সঙ্গে ছিলেন জগদীশবাবু। ১৯৯৮-২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছর জগদীশবাবু ব্লক সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২২ সালে মৃত্যু পর্যন্ত দলের প্রতি অনুগত ছিলেন। তাঁর সেই অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। জগদীশবাবুর ত্যাগ ও নিষ্ঠাকে আদর্শ করে সমস্ত কর্মীকে ব্যক্তিগত মান-অভিমান ভুলে একজোট হয়ে ভোটের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন। বিদায়ী বিধায়ক পরেশবাবু ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে প্রার্থীকে বড়ো ব্যবধানে জয়ী করবেন বলে সভায় অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, দিদি দলের সবাইকে মনে রাখেন। তিনি যেভাবে এদিন প্রয়াত জগদীশবাবুর কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেন, তা থেকেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়। নেত্রী আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন, তা চিরকাল মাথায় রাখব।
  • Link to this news (বর্তমান)