• ঝাড়গ্রামে অনুমতি ছাড়া বিজেপির দেওয়াল লিখন, মমতার সভায় এসে নালিশ লোধা-শবরদের
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: বিজেপির দেওয়াল লিখন ঘিরে ঝা‌ড়গ্রামের পাথরনালা গ্রাম অশান্ত হয়ে উঠল। অভিযোগ, গ্রামের লোধা-শবর বাসিন্দাদের অনুমতি ছাড়া পোস্টারিং ও দেওয়াল লিখন করেছে গেরুয়া শিবির। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজেপি নেতা-কর্মী ও গ্রামবাসীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপর স্থানীয়রা ঝাড়গ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। শনিবার ঝাড়গ্রাম শহরের সার্কাস ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় এসেও তাঁরা নালিশ জানান।

    এবিষয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা হৃষিকেশ মাহাত বলেন, দেওয়াল লিখনের জন্য মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তৃণমূলের ছেলেরাই প্রথমে অশান্তি করে। তৃণমূলই বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসেছিল। এখন ওরা বিজেপির বিরুদ্ধে গল্প বানাচ্ছে।

    ঝাড়গ্রামের এসপি মানব সিংলা বলেন, গ্ৰামবাসীদের অনুমতি ছাড়া বিজেপি দেওয়াল লিখন করেছিল। তা মুছে দেওয়ায় গ্রামের বাসিন্দার উপর বিজেপির লোকজন হামলা চালিয়েছে। এঘটনায় চারজনের নামে থানায় অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত চলছে।

    ঝাড়গ্রামের সাপধরা পঞ্চায়েতের আওতায় পড়ে লোধা-শবর অধ্যুষিত পাথরনালা গ্রাম। এখানকার নারী-পুরুষ সকাল হলে জঙ্গলে শুকনো কাঠ, শালপাতা সংগ্ৰহ করতে চলে যান। শুক্রবার সকালে অনেকেই জঙ্গলে গিয়েছিলেন। বিকালে গ্ৰামে ফিরে দেখেন, ঘরের দেওয়ালে বিজেপি প্রার্থীদের নাম সহ প্রতীক আঁকা হয়েছে। কয়েকটি দেওয়ালে তখনও লেখা চলছিল। স্থানীয়রা এই অনুমতিহীন দেওয়াল লিখন থামাতে বলেন। অভিযোগ, এরপরই বিজেপি কর্মীরা তাঁদের জাত তুলে অশ্রাব্য গালিগালাজ করে। ৫ এপ্রিলের পর তৃণমূল কোথায় থাকবে-তা দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বচসা থেকে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ তাড়াতাড়ি পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন। লোধা-শবর বাসিন্দারা রাতেই ঠিক করেন, হামলার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন। এজন্য শনিবার শহরের সার্কাস ময়দানে তাঁরা দল বেঁধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় হাজির হন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কথা শোনেন। এরপর মঞ্চ থেকে বলেন, ‘লোধা-শবরদের উপর অত্যাচার হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কেউ সিম্বল লাগাতে পারেন না। জোর করে সিম্বল লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’ পাথরনালা গ্ৰামের বাসিন্দা সাধু মল্লিক বলেন , বিকাল ৪টের সময় জঙ্গল থেকে বাড়ি ফিরি। এসে দেখি, বিজেপির ছেলেরা ঘরের সুন্দর দেওয়ালে ওদের প্রার্থীদের নাম, চিহ্ন এঁকে গিয়েছে। অন্য বাড়ির দেওয়ালে তখনও লিখছিল। তা বন্ধ করতে বললে গালিগালাজ শুরু করে। ৫এপ্রিলের পর দেখে নেবে বলেছে। এরপরই ওদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়।

    অপর বাসিন্দা লতা মল্লিক বলেন, প্রতিবাদ করায় আমাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ দেওয়া হয়। গায়ে হাত তুলেছে। আমাদের অত্যাচারিত হওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে পেরে কিছুটা হলেও স্বস্তি বোধ করছি। জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গি বলেন, পাথরনালা গ্ৰামে লোধা-শবরদের সঙ্গে যা হয়েছে, তার নিন্দার ভাষা নেই।
  • Link to this news (বর্তমান)