• ভালো কাজে পুরস্কার, বেচাল হলেই ওষুধ, বীরভূমে প্রশাসনিক বৈঠকে বার্তা সিইওর
    বর্তমান | ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা ও আদর্শ আচরণবিধি বজায় রেখে চলতে হবে। সেক্ষেত্রে ভালো কাজের ক্ষেত্রে মিলবে পুরস্কার। নিয়ম লঙ্ঘিত হলেই প্রয়োগ করা হবে ‘ওষুধ’। শুক্রবার রাতে রামপুরহাটে জেলার ডিএম, এসপি, সব থানার আইসি, ওসি, এসডিও, বিডিও, আরও, এআরওদের নিয়ে বৈঠকে এভাবেই জিরো সন্ত্রাস ও ভয়মুক্ত নির্বাচন করতে ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা দেন কমিশনের সিইও মনোজ আগরওয়াল। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি প্রথমে রামপুরহাট সার্কিট হাউসে যান। সেখানে ডিএম, এসপি, বিধানসভা ভিত্তিক জেনারেল ও এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার, মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়ে বৈঠকে করেন। 

    সূত্রের খবর, এই বৈঠকে বীরভূমের মতো স্পর্শকাতর জেলায় প্রশাসনিক আধিকারিকদের কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, কোনোভাবেই শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। প্রায় দু’ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সিইও সাড়ে দশটা নাগাদ যান রামপুরহাট রক্তকরবী পুরমঞ্চে। সেখানে ডিএম, এসপির পাশাপাশি জেলার সব বিডিও, ওসি, আইসিদের নিয়েও বৈঠক করেন। 

    সূত্রের খবর, যারা ধমকে চমকে ভোট করায়, তাঁদের নামের তালিকা তৈরি হয়েছে বা তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা পুলিশের কাছে জানতে চান সিইও। এই বৈঠকে মূলত ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তার উপরই জোর দেন সিইও।  যাঁরা ভয়মুক্ত ও নিরপেক্ষ ভোট করাতে সক্ষম হবেন, সেই আধিকারিকদের পুরস্কৃত, আর যদি কোনো আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব বা কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণ হয় কমিশনের কোপ থেকে তাঁর নিস্তার মিলবে না। সেই সঙ্গে এলাকা দখল বা ভোটারদের ভয় দেখানো রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগানোর জন্যও বলা হয়েছে। এদিন রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ বৈঠক শেষে  সিইও বলেন, বীরভূমে পরিস্থিতি ভালো। ভোটার তালিকা থেকে হাজার, হাজার বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার প্রসঙ্গে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দিকেই বল ঠেলেন। মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ট্রাইবুনাল করেছে। সুপ্রিম কোর্ট বিচারাধীন করল। বিচারাধীন তো আমাদের আইনে নেই। যাঁরা ডিলিট হয়েছেন তাঁরা আইনি প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্য঩মেই তাঁদের ফিরতে হবে। এদিনের বৈঠকের ব্যাপারে তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন,  ‘পুরস্কার’ আর ‘ওষুধ’ কথাটি কী নির্বাচন কমিশনের ক্ষেত্রেও প্রযোয্য। আমরা খুব আশা নিয়ে ওঁর কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিজেপির শেখানো বুলি ছাড়া তাঁর মুখ থেকে কিছু শোনা যায়নি। 

    যদিও বিজেপির জেলা মুখপাত্র শান্তনু মণ্ডল বলেন, কমিশন স্বাধীন সংস্থা। বিজেপি পরিচালিত নয়। নির্বাচন অবাধ, ভয়মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করানোর দাবি আমাদেরও। তার জন্য যদি তাঁকে ‘ওষুধ’ দিতে হয় দেবেন। শনিবার সকালে তারাপীঠে পুজো দেন সিইও।  
  • Link to this news (বর্তমান)