কাটোয়া মহকুমার তিন বিধানসভায় ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৯৬ হাজার ৫৮৮ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। আর এখনও পর্যন্ত ট্রাইবুনালে জমা পড়েছে মাত্র ৩৫ হাজার আবেদন। প্রতিদিন কাটোয়া মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ছে। লাইনে দাঁড়ানো মানুষগুলোর চোখেমুখে আতঙ্ক।
মঙ্গলকোটের দেউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লাইলি বিবি বলছেন, অনলাইনে আবেদন করেছিলাম, কিন্তু বলছে জমা পড়েনি। তাই আবার লাইন দিয়ে অফলাইনে আবেদন জমা দিচ্ছি। এরকম দুর্ভোগে জীবনে পড়িনি। আমার স্বামী রাইহান মণ্ডলের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি চেন্নাইতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তাই আমাকেই আসতে হয়েছে। বাড়িতে দুটো ছোটো ছেলেকে রেখে এসেছি। সেলিনা বিবি বলছেন, ট্রাইবুনালের জন্য আবেদনপত্র জমা দিতে এসে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে ভাবিনি। চার দেওরের নাম বাদ পড়েছে। চিন্তায় বাড়িতে ভাতের হাঁড়ি চড়ছে না। চক্রান্ত করে আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। হাটমুড় গ্রামের বধূ ঝর্না বিবি বলছেন, কোনোদিন এভাবে লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। খুব অসহায় লাগছে। কেন আমাদের নাম বাদ দিল!
কাটোয়ার মহকুমা শাসক অনির্বাণ বোস বলেন, এখনও পর্যন্ত যা আবেদন জমা পড়েছে আমরা সেগুলো ট্রাইবুনালের জন্য জমা রাখছি। কাউন্টারের সংখ্যা বাড়িয়েছি যাতে মানুষের হয়রানি না হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া বিধানসভায় ২৪ হাজার ১৮০ জনের নাম বাদ গিয়েছে। মঙ্গলকোটে ৩২ হাজার ৬৩১ জনের নাম বাদ গিয়েছে। আর কেতুগ্রামে বাদ গিয়েছে ৩৯ হাজার ৭৭৭ জনের নাম। কেতুগ্রামের কান্দরা অঞ্চলে ৭১ নম্বর বুথে মোট ভোটার ১১৩৬ জন। তারমধ্যে ২৬৯ জন বিচারাধীন তালিকায় ছিলেন। প্রত্যেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা জাহির খান বলেন, বুথে অর্ধেক ভোটারের নাম কোন যুক্তিতে বাদ দিল তার জবাব দিতে হবে। কাটোয়া কোশিগ্রাম অঞ্চলের রাজুয়াতে ৬১৪ জনের নাম বাদ গিয়েছে। তারমধ্যে রয়েছেন ইতিহাস সমীক্ষক মহম্মদ আয়ুব হোসেনের নাম। যিনি সারাটা জীবন অজয় নদের চর থেকে পুরনো সভ্যতার নানা নির্দশন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়কে খুঁজে এনে দিয়েছেন। তাঁর নামই বাদ চলে গিয়েছে। কেতুগ্রামের আনখোনাতে ১৫৪৩ জনের নাম বাদ গিয়েছে। ক্ষোভে ফুঁসছেন মহিলারা। মঙ্গলকোটের বরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা জুহুরা বিবি বলছেন, যেভাবে ট্রাইবুনালের জন্য আবেদন জমা দিতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হতে হল। তা ভোলার নয়।