কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে কংগ্রেসের প্রার্থীপদ! বিস্ফোরক অভিযোগ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতির
বর্তমান | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় অর্থের বিনিময়ে কংগ্রেস টিকিট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। তদন্তের দাবি করছে দলের একাংশ। কার মাধ্যমে টাকা বিনিময় হয়েছে এবং কীভাবে হয়েছে, এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইছেন কংগ্রেসের নেতা তথা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি শিলাদিত্য হালদার। সোমবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে প্রার্থী করা হয়েছে কংগ্রেসে।’ এ নিয়ে তোপ দেগেছেন মুর্শিদাবাদের জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী ও প্রাক্তন সাংসদ তথা বহরমপুরের প্রার্থী অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধেও। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে। এই অভিযোগ ‘কাল্পনিক’ বলে বিতর্ক এড়িয়েছেন জেলা সভাপতি।
শিলাদিত্যবাবু এদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো টিকিটের জন্য এক কোটি কুড়ি লক্ষ, কোথাও দু’কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রদেশ নেতৃত্ব ও সর্বভারতীয় নেতৃত্বের কাছে আমরা জবাব চাইব। গোটা ভারতবর্ষে কংগ্রেস দলের একটা ঐতিহ্য আছে। গোটা রাজ্যে কংগ্রেস একটা ঐতিহ্য আছে। কিন্তু মুর্শিদাবাদের কেন অর্থের বিনিময়ে দলের টিকিট নিতে হবে?’ এমনকী তিনি মনোজবাবুর টিকিট পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। শিলাদিত্যর দাবি, অধীর চৌধুরী বলেছিলেন, মনোজ চক্রবর্তীকে টিকিট দেওয়া হবে না। কেন সাগরদিঘিতে মনোজবাবুকে টিকিট দেওয়া হল? অপদার্থ জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী। সাগরদিঘিতে দীর্ঘদিনের রাজনীতি করে এমন বেশ কয়েকজন কংগ্রেসের উপযুক্ত নেতা আছেন। কিন্তু তাঁদেরকে টিকিট না দিয়ে সাগরদিঘিতে পাঠিয়ে দেওয়া হল মনোজবাবুকে।
এদিন সামশেরগঞ্জ বিধানসভায় বিড়ি ব্যবসায়ীকে টিকিট দেওয়া নিয়েও সরব হয়েছেন শিলাদিত্য। সেখানেও টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন তিনি। শিলাদিত্যবাবু বলেন, ‘সামশেরগঞ্জ বিধানসভায় একজনকে টিকিট দেওয়া হল। তাঁর আগে অন্য একজনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে টাকা নেওয়া হয়েছিল টিকিট দেবে বলে। তিন মাস আগে অগ্রিম সেই টাকা নিয়েও টিকিট দেওয়া হয়নি। তার থেকে দ্বিগুণ টাকার বিনিময়ে এখন যিনি প্রার্থী হয়েছে, তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। আগে যাকে টিকিট দেওয়া হবে বলেছিল, তাঁর টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ডোমকল বিধানসভার টিকিট নিয়েও সরব হয়েছেন বিক্ষুব্ধ এই কংগ্রেস নেতা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিলাদিত্য বলেন, গত লোকসভা নির্বাচনে যে মহিলা অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে অশ্লীল কথা বলেছিল। তাকে দলে আসার সঙ্গে সঙ্গে ডোমকলের টিকিট দেওয়া হল। ফলে প্রকৃত কংগ্রেস কর্মীদের জায়গা কোথায়, সেটা ভাবার দরকার আছে। এদিকে বেলডাঙায় এক ব্যবসায়ীকে টিকিট দেওয়া হল। সেখানে প্রাক্তন বিধায়ক দীর্ঘদিনের কংগ্রেসের লড়াকু নেতাকে টিকিট থেকে বঞ্চিত করা হল। এইসব দ্বিচারিতা নিয়েই তদন্ত দরকার।
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ওর কাল্পনিক ও নিম্ন মানের কথার কোনো উত্তর নেই। আমি হেলায় মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে দলের সংগঠনের কাজ করতাম। আমার লোভ লালসা থাকলে মন্ত্রিত্ব ছাড়তাম না। হাটে বাজারে আমি কোথাও কখনও বিক্রিবাটা হইনি। ফলে এখন কে কী বলল সেসব গুরুত্ব দিচ্ছি না। প্রচার করছি। ভালো সাড়া মিলছে। শিলাদিত্য পাল্টা বলেন, আমি তদন্ত চাইছি বলে কংগ্রেস যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ভালো। কিন্তু আমি কংগ্রেস ছাড়ব না। কলেজ জীবন থেকে রাজনীতি করে এত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। এখনও আমি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছি না। এটা আমার কাছে খুব দুঃখের।