নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: রাত পোহালেই চৈত্র সংক্রান্তি। তারপরেই বাংলা নতুন বছর। রীতি মেনে বাংলা নববর্ষে নতুন পোশাক সহ গৃহস্থালীর বিভিন্ন নতুন সরঞ্জাম কেনা রীতি বাঙালি পরিবারে। তাছাড়া চৈত্র মাসে বিশেষ ছাড়ও দেন ব্যবসায়ীরা। তাই ভোটের মরশুমেও জমজমাট গৌড়বঙ্গের কেনাকাটার বাজার। ব্যবসায়ীদের হাসি যেমন চওড়া হচ্ছে, খুশির মেজাজে গৌড়বঙ্গের বাসিন্দারাও। জামাকাপড়ের দোকানে দুপুরের পর থেকেই আসতে শুরু করছেন ক্রেতারা। তাঁদের টানতে দামে ছাড় দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন বিক্রেতারাও।
মালদহের দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন পুরবাজারে এবং সংলগ্ন রাস্তার পাশে রয়েছে সারিবদ্ধ জামাকাপড়ের দোকান। ব্যবসায়ীরা দোকানের সামনে বোর্ড দিয়ে জানান দিচ্ছেন ছাড়ের পরিমাণ। ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ ছাড় মিলছে বেশির ভাগ দোকানেই। কোথাও আবার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার আশ্বাস। জামাকাপড়ের চেয়েও বেশি বিক্রি হচ্ছে বেড কভার, বালিশের কভার, পর্দা, টেবিল ক্লথের মতো গৃহস্থালীর সামগ্রী। বিক্রি হচ্ছে বাড়িতে পরার হাওয়াই চটি, স্যান্ডেলও। নতুন শাড়ি, অল্পবয়সীদের পোশাকও যথেষ্ট বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এছাড়াও কাঁসা বা পিতলের বাসন, জল খাওয়ার গ্লাস, খাওয়ার টেবিলে ব্যবহারের জন্য ম্যাটও ঘুরে ঘুরে কিনছেন গৃহস্থরা।
বাজার করতে আসা গৃহবধূ ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী বলেন, পুজোর সময় কেনাকাটা আরও বেশি হয়। কিন্তু নববর্ষ উপলক্ষ্যেও বেশকিছু কেনাকাটা করতেই হয়। আমাদের নতুন বছর বলে কথা। পরিবারের সদস্যদের কিছু না কিছু নতুন উপহার দেওয়াটাই রেওয়াজ। তাছাড়া নববর্ষের দিন বাড়ি সাজানোর জন্য নতুন কিছু কিনে থাকেন অনেকেই। এই রীতির কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। বুধবার বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে রায়গঞ্জ শহরের বাজার দোকানে ভিড়। চৈত্র সেলে কেনাকাটা করতে রবিবার দুপুর থেকেই লাইনবাজার সংলগ্ন দোকানগুলিতে ভিড় উপচে পড়ে। শুধুমাত্র রকমারি পোশাক কেনা নয়, বিছানার চাদর, জানলা দরজার পর্দা, জুতো, গৃহসজ্জার সামগ্রী কিনতে ক্রেতাদের উৎসাহ বেশি ছিল। দোকানে কেনাকাটার ভিড়ে মহিলা ও শিশুদেরও ভিড় সবচাইতে বেশি।
রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে শহরের চৈত্র সেলের বাজার জমতে শুরু করেছে। মোহনবাটির পাশাপাশি লাইন বাজার সংলগ্ন পোশাকের দোকানগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি ছিল। সেইসঙ্গে ফাস্টফুড ও আইসক্রিমের দোকানগুলিতেও ক্রেতা ছিল। তবে, এজন্য শহরের ওই নির্দিষ্ট রাস্তায় সাময়িক যানজটও তৈরি হয়।
নববর্ষের আগে বালুরঘাট শহরে কেনাকাটিতে ব্যাপক ভিড় বাড়ল। বালুরঘাট শহরের তহবাজার, নিউমার্কেট, বড়বাজার সহ শহরের নামী শপিংমলগুলিতেও ব্যাপক ভিড় ছিল। রবিবার সকাল থেকেই দোকানে দোকানে কেনাকাটার ভিড় দেখা যায়। বিকেলের পর থেকে ভিড় আরও বেড়ে যায়। ফলে শহরের বাজারের মূল রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বাজার করতে আসা এক যুবতী সোনালী মালাকার বলেন, নববর্ষের আর দেরি নেই। আজ রবিবার ছিল বলে কেনাকাটা করতে এসেছি। আজ কেনাকাটা সম্পূর্ণ হয়নি। আরও একদিন আসতে হবে বাজারে। বালুরঘাট শহরের এক কাপড় ব্যবসায়ী সুব্রত সরকার বলেন, সকালের দিকে খানিকটা ফাঁকা ছিল। কিন্তু দুপুরের পর থেকে ব্যাপক ভিড় হয়। কয়েকদিন একই রকম ভিড় থাকবে।