পাক মদতে শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে উত্তরপ্রদেশে (Noida workers protest)! বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন যোগীরাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর। রবিবার রাত থেকে শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে নয়ডা। শ্রম আইন মেনে মজুরি বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবিতে প্রতিবাদ শুরু করেন শ্রমিকরা। সেই বিক্ষোভ নিয়েই বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন অনিল। তাঁর কথায়, পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র চলছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিগড়ে দেওয়ার জন্য।
যোগী সরকারের মন্ত্রী জানিয়েছেন, শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে অন্তত ৩৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে অশান্তি ছড়ানোর ছক। সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে নয়ডা এবং মিরাট থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, পাক জঙ্গিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। বিবৃতি জারি করে অনিল বলেন, ‘বিক্ষোভের উদ্দেশ্য আসলে রাজ্যজুড়ে অশান্তি বাঁধানো, এই তত্ত্বই জোরদার হচ্ছে। আপাতত তদন্ত চলছে গোটা ঘটনায়।’ শ্রমিক বিক্ষোভকে ‘দেশদ্রোহিতা’র তকমাও দিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, মজুরি বৃদ্ধি এবং উন্নত কর্ম পরিবেশের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন নয়ডার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। এই আন্দোলনের সূত্রপাত হরিয়ানা সরকারের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে, যেখানে অদক্ষ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। এর পরই নয়ডা-র শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করে। তাঁদের দাবি, পাশের রাজ্যে একই ধরনের কাজের জন্য বর্ধিত মজুরি দেওয়া হলে উত্তরপ্রদেশেও মজুরির হার বাড়াতে হবে।
বেতনবৃদ্ধির দাবি সোমবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি চরমে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা হিংস্র হয়ে ওঠে। ভাঙচুর করা হয় বহু গাড়ি। এমনকী সেগুলিতে অগ্নিসংযোগও করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি। মাঝরাতে শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন যোগী। সমস্ত অসংগঠিত ক্ষেত্রে শ্রমিকদের মজুরি ৩০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন দেশদ্রোহিতা বলে দাগিয়ে দেওয়া হল? সেই নিয়ে চুপ যোগী।