তামিলনাড়ু জিততে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই হাঁটল বিজেপি। মঙ্গলবার তামিলভূমের ইস্তেহার প্রকাশ করেছে গেরুয়া শিবির। সেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ধাঁচে নতুন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির নাম জানা না গেলেও সেখানে মহিলাদের মাসে ২ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গেরুয়া শিবির। একইসঙ্গে বছরে বিনামূল্যে তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে ইস্তেহারে।
এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ইস্তেহারটি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “তামিলনাড়ু বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতার আঁতুড়ঘর হিসাবে পরিচিত। এখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিরুভল্লুভার এবং সুব্রামানিয়া ভারতীর মতো ব্যক্তিত্বরা।” আগামী ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুতে রয়েছে ভোট। এখনও পর্যন্ত দক্ষিণী এই রাজ্যে পা ফেলতে পারেনি বিজেপি। তাই এবার তামিলনাড়ুকে পাখির চোখ করেছে গেরুয়া শিবির। মহিলা ভোট পেতে কল্পতরু বিজেপি। ইস্তেহারে একাধিক সুযোগ-সুবিধার কথা তারা বলেছে। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে প্রতিটি পরিবারকে এককালীন ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। নারীদের ই-স্কুটার কেনার জন্য দেওয়া হবে ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি। এছাড়াও জাল্লিকাট্টুর ষাঁড় পালনকারীদের জন্য মাসিক ২ হাজার টাকার অর্থিক সাহায্য। পাশাপাশি, জাল্লিকাট্টুতে অংশগ্রহণকারীদের মৃত্যুতে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার কথাও ইস্তেহারে বলা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। মহিলাদের বাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটিতে ৩ শতাংশ ছাড়, গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী কেনার জন্য ৮ হাজার টাকার কুপন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বিজেপি। এছড়াও তামিলনাড়ুর প্রধান মন্দিরগুলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দর্শনের জন্য দৈনিক দু’ঘণ্টা সময় সংরক্ষিত করার কথাও বলেছে বিজেপি।
উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটে জিতেই কার্যকর করেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। বিরোধীরা তৃণমূল কংগ্রেসের ‘খয়রাতি’ রাজনীতির নিন্দা করলেও সময় বুঝিয়ে দিয়েছে, তৃণমূল নেত্রীর এই পদক্ষেপ কতটা সময়পযোগী ছিল। বর্তমানে তাঁর দেখানো পথেই হাঁটছে বিজেপি। কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশের ‘লাডলি বেহনা’ প্রকল্প, মহারাষ্ট্রের ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লড়কি বহিন যোজনা’-একের পর এক রাজ্যে মমতার দেখানো পথেই বাজিমাত করেছে বিজেপি। এবার তামিলনাড়ুতেও সেই কৌশল নিল গেরুয়া শিবির।