• ডোম, ঝাড়ুদার, সাফাইকর্মীরাও তৃতীয় পোলিং অফিসার! শোরগোল মালদহে
    প্রতিদিন | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • কেউ ঝাড়ুদার, কেউ আবার সাফাইকর্মী! কেউ আবার শৌচাগারে ডিউটি করেন। অনেক সময় ডোমের কাজটাও করতে হয় তাঁদের। এবার নির্বাচন কমিশনের সৌজন্যে এঁরাও ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election) তৃতীয় পোলিং অফিসার! মালদহে এমনই অন্তত চল্লিশ জনকে থার্ড পোলিং অফিসারের দায়িত্ব দিয়েছে জেলা নির্বাচন দপ্তর। যা নিয়ে সোমবার শোরগোল পড়ে গিয়েছে মালদহের (Malda) রাজনৈতিক মহলে। ক্ষোভে ফেটে পড়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, “এটা নির্বাচন না ছেলেখলা হচ্ছে।”

    এখানেই শেষ নয়, যাঁরা ভোটের এই দায়িত্ব পেয়েছেন তাঁরা নিজেরাই জানাচ্ছেন, তাঁরা সই করতে পারেন না। আঙুল ছাপ দেন। তাঁদের কেউ সাফাইকর্মী, কেউ ঝাড়ুদার। ডোমের কাজটাও করতে হয় তাঁদের। তাঁরা জানেন না ভোট কীভাবে নিতে হয়। নির্বাচন কমিশনের থার্ড পোলিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পেয়ে তাঁরা নিজেরাই কার্যত হতাশ। কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। তাঁরা ইংলিশবাজার পুরসভার কর্মী। কেউ আবার কো-অপারেটিভ হোলসেল কনজিউমার সোসাইটির হেল্পারের কাজ করেন। ডোম, সাফাইকর্মী, ঝাড়ুদার, মজদুর সকলেই থার্ড পোলিং অফিসার! যা শুনে তাজ্জব অনেকেই।

    এহেন ভোটের ডিউটির নমুনা দেখে হতবাক রাজনৈতিক দলের নেতারাও। সব দলেই এ নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। সোমবার নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জেলায় ভোটের ডিউটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেখানেই দেখা যাচ্ছে এমন বহু নাম যাঁদের তৃতীয় পোলিং অফিসার হিসাবে নেওয়া হয়েছে। কীভাবে নেওয়া হল তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। পুরসভার প্রায় ৪০ জন সাফাইকর্মীকে থার্ড পোলিং অফিসার করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে ভোটের কয়েক দিন শহরজুড়ে সাফাই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ।

    ইংলিশবাজার পুরসভার কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের জেলার মুখপাত্র শুভময় বসু জানান, ইতিমধ্যেই পুরসভার তরফ থেকে এ বিষয়ে চিঠি করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। মালদহের অতিরিক্ত জেলা শাসক অনিন্দ্য সরকার বলেন, “সবকিছুই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ও গাইডলাইন অনুযায়ী করা হয়েছে। তবে কিছু ভুলত্রুটি থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)