প্রচারে না যাওয়ায় নন্দীগ্রামে যুবককে বেধড়ক মার! শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলের
প্রতিদিন | ১৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম দফার নির্বাচনের বাকি আর কয়েকটা দিন। আগামী ২৩ এপ্রিল ভোট (West Bengal Assembly Election) রয়েছে মোট ১৫২টি আসনে। তার আগেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ‘হটস্পট’ নন্দীগ্রাম। শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রচার কর্মসূচিতে না যাওয়ায় এক যুবককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ বিজেপি বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর উস্কানিতেই তাঁকে মারধর করা হয়েছে। আর এই ঘটনার বিচার চেয়ে এবং শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিল তৃণমূল। একইসঙ্গে আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য শুভেন্দু অধিকারীকে শোকজ নোটিস দেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।
আক্রান্ত ওই যুবকের নাম অমর কর (৩২)। অভিযোগ, সোমবার সকালে নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের সোনাচূড়া অঞ্চলের সাউদখালির মনসা বাজারে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপরেই গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অমরকে। জানা গেছে, নির্বাচন ঘোষণার পর অমর কর দুই দফায় দলদবদল করেন। শুরুতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন, পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের লোকজনের দাবি, চাপ সৃষ্টি করে তাঁকে বিজেপিতে যোগদান করতে বাধ্য করানো হলেও তিনি তাদের প্রচার কর্মসূচি এড়িয়ে চলছিলেন। রবিবার শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রচারে যেতে বলা হলেও তিনি যাননি। তাই এদিন সকালে বাজারে একা পেয়ে তাঁকে ধরে মারধর করে বিজেপির লোকজন। দুপুর নাগাদ খবর পেয়ে গিয়ে বাড়ির লোকজন গিয়ে আক্রান্তকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। অমরের বাবা রতন কুমার করের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনার নিন্দা করে নন্দীগ্রাম ১ ব্লক তৃণমূল কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গ বলেন, ‘আক্রান্ত ব্যক্তি কোন দল করে সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হল তাঁর ওপর যে অমানবিক অত্যাচার হয়েছে পুলিশ প্রশাসন যেন তার নিরপেক্ষ তদন্তে করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। আমরা দলীয়ভাবে আক্রান্তের পরিবারের পাশে আছি।’ এরপরেই এদিন অমরকে নিজেদের কর্মী দাবি করে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ জানাল তৃণমূল।
যদিও এই প্রসঙ্গে বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, তৃণমূল ভোটের (West Bengal Assembly Election) আগে একটা জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিজেপি নেতার কথায়, ভারতীয় জনতা পার্টির সাংগঠনিক পরিস্থিতি এতটা দুর্বল হয়নি, যেখানে অমর করের মতো একজন সাধারন ভোটারকে বিজেপিতে নিয়ে আসতে মারধর করতে হবে। এমন কাজের জন্য তৃণমূলের কেউ যুক্ত নয় বলেও মন্তব্য মেঘনাথ পালের।