বিহারে খতম নীতীশ-রাজ, বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী পদে ‘দলবদলু’ সম্রাট
বর্তমান | ১৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোটের আগে দাবি করা হয়েছিল যে, তিনি পাঁচ বছর থাকবেন! কিন্তু মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বিহারে বিজেপিকে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিলেন নীতীশ কুমার। প্রাক্তন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ভোটে জিতে এসে বিজেপি নীতীশকে সরিয়ে নিজেরাই নেবে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি। তাই হতে চলেছে। মঙ্গলবার নীতীশ কুমার অবশেষে ইস্তফা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে। সেই পদে বসতে চলেছেন তাঁর সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী, ‘দলবদলু’ বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরী। আজ, বুধবার তিনি শপথগ্রহণ করবেন। এই ওবিসি নেতার মুখ্যমন্ত্রী আসনে বসার মাধ্যমেই বিজেপির দীর্ঘকালের স্বপ্ন পূরণ হবে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই হিন্দি বলয়ের হিন্দিভাষী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচিত গেরুয়া শিবির। বহু বছর ধরেই মোদি-শাহরা চাইছেন, সেই পরিচয় মুছে ফেলে সর্বভারতীয় ভাবমূর্তি নির্মাণের। সেই লক্ষ্যে অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গকে সরাসরি নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া পদ্মপার্টি।
বিহারে ২০০৫ সাল থেকে চলা নীতীশ কুমার যুগের অবসান হল এদিন। জেডিইউ সুপ্রিমোর এই সিদ্ধান্তে অবশ্য তাঁর দল ও বিহারবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বলা হচ্ছে, নীতীশ কুমার নিজের নামে ভোট চাইলেন। কিন্তু জয়ী হয়ে বিহার ছেড়ে দিল্লি চলে যাচ্ছেন। এটা তো ধোঁকা! বিজেপির বিহার দখলের সূত্রপাত যাঁর মাধ্যমে হচ্ছে, সেই সম্রাট চৌধুরী অবশ্য দলের আদি ঘরানার কেউ নন। ২০১৭ সালে যোগ পদ্মপার্টিতে। তাঁকে বলা হয়, দলবদলের চ্যাম্পিয়ন! কারণ, গত শতাব্দীর নয়ের দশকে বাবা কংগ্রেস নেতা শকুনি চৌধুরীর হাত ধরে হাত শিবির, পরে লালুর দলে যোগ দিয়েছিলেন। রাবড়ি দেবীর সরকারে মন্ত্রীও হন। তারপর আবার দলত্যাগ। নীতীশ কুমারের দলে যোগ দেওয়া। সেখানেও মন্ত্রী। আবার দলবদল। বিজেপিরে অন্দরেও উল্কাসদৃশ উত্থান। ‘আদি’ নেতাদের ছাপিয়ে তাঁকেই সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গেরুয়া শিবিরে। কংগ্রেস ছেড়ে আসা অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মা, মণিপুরের বীরেন সিং, অরুণাচল প্রদেশের পেমা খান্ডুর পর আরও এক দলবদলুকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসাতে চলেছে বিজেপি। স্লোগান ছিল, কংগ্রেস-মুক্ত ভারত। কিন্তু মোদির দল ক্রমেই হয়ে যাচ্ছে, কংগ্রেস-যুক্ত বিজেপি!