সংবাদদাতা, লালবাগ: ভোটের আগে পোলট্রি মুরগির মাংস মহার্ঘ্য। গত কয়েকদিন ধরে প্রতি কেজি পোলট্রি মুরগির মাংসের দাম ২৮০-৩০০ টাকার মধ্যে ঊঠানামা করছে। ফলে অগ্নিমূল্যের বাজারে সপ্তাহে একদিন দুপুরে মাংস পাতে তুলতে মধ্যবিত্ত থেকে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে। সব রাজনৈতিক দল দিনের শেষে কর্মী-সমর্থকদের জন্য মুরগির মাংস সহযোগে নৈশভোজের আয়োজন করছে। আর তাতেই মুরগির মাংসের দাম লাফিয়ে বেড়েছে বলে দাবি মধ্যবিত্ত শ্রেণির। যদিও রাজনৈতিক দলগুলি মধ্যবিত্তের দাবি মানতে নারাজ। তবে পোলট্রি ফার্মের মালিক থেকে মাংস ব্যবসায়ীরা মধ্যবিত্তের দাবিকেই প্রকারান্তে স্বীকার করে নিয়েছেন।
খাদ্যদ্রব্য থেকে সাংসারিক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম প্রতিদিন বেড়ে চলেছে। সংসার চালাতে রীতিমতো নাভিশ্বাস অবস্থা মধ্যবিত্তের। রোজকার বাজারের বাজেটেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে। এদিকে খাসি বা পাঠার মাংস অনেক আগেই মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পোলট্রির মুরগির দিকেই ঝুঁকেছিলেন তাঁরা। সপ্তাহে অন্তত একদিন মধ্যাহ্নের খাবারের মেনুতে মুরগির মাংস থাকছিল। কিন্তু তাতেও বাধ সেধেছে মূল্যবৃদ্ধি। লালবাগের স্টেশন রোডের বাসিন্দা সৌমেন হাজরা বলেন, ভোটের দিন ঘোষণার আগে দাম ১৮০-২০০ টাকার মধ্যে ছিল। ভোটের দিন ঘোষণার পরেই দাম বাড়তে শুরু করে। গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি কেজি মাংসের দাম ২৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছিল।
মঙ্গলবার থেকে ৩০০ টাকা ছুঁয়েছে। জিয়াগঞ্জের বাসিন্দা অনিল মণ্ডল বলেন, বর্তমানে খাসির মাংস ৮৫০-৯০০ টাকা কেজি। দামের জন্য সাধ থাকলেও সাধ্য হয় না। তাই মধ্যবিত্ত মুরগির মাংসেই সন্তুষ্ট ছিল। সম্প্রতি অনেকটাই দাম বাড়ার কারণে মুরগির মাংসও হাতের নাগালের বাইরে যেতে বসেছে। মুরগির মাংস ব্যবসায়ী লাল্টু শেখ বলেন, প্রতিদিন দিনভর প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের শেষে রাতে রাজনৈতিক দলগুলি তাদের কর্মী ও সমর্থকদের জন্য খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা রাখছে। প্রত্যেক দলের মেনুতে মুরগির মাংস থাকছেই। ফলে বাড়তি চাহিদার জন্য সুযোগ বুঝে পোলট্রি ফার্মের মালিকরা দাম চড়িয়ে দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে আমাদের কোনো কিছু করার থাকছে না। এক পোলট্রি ফার্মের মালিক বলেন, শুধুমাত্র নির্বাচনের কারণে দাম বেড়েছে এটা বলা ঠিক হবে না। মুরগির খাবার, পরিচর্চা এবং পরিবহণ খরচ অনেকটাই বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হয়েছে। শাসক দলের এক নেতা বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে পোলট্রি মুরগির দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভোটের জিগির তুলে অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে।