• নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে এখনই কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ, নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের
    আনন্দবাজার | ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর। বৃহস্পতিবার বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। ফলে গ্রেফতার বা কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশঙ্কা থেকে সাময়িক রেহাই পেলেন তিনি। তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপ্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে কোনও বাধা নেই। অর্থাৎ, পুলিশের তদন্ত অব্যাহত থাকবে, কিন্তু এই মুহূর্তে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। আদালতের এই নির্দেশে এক দিকে যেমন আইনি সুরক্ষা পেলেন পবিত্র, অন্য দিকে তদন্তের গতিও বজায় থাকছে।

    এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তাঁরই একদা ঘনিষ্ঠ পবিত্রকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তিনি ১৭ মার্চ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেই নন্দীগ্রামে শাসকদলের প্রার্থী হয়েছেন। শুভেন্দুর অভিযোগ ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। সম্প্রতি হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে শুভেন্দু নিশানা করেন পবিত্রকে। বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, স্ক্রুটিনির সময় কোনও আপত্তি জানাননি। যদিও চাইলে পবিত্রের প্রার্থীপদ বাতিল হয়ে যেতে পারত। শুভেন্দুর আরও প্রশ্ন, “একই ব্যক্তি কী ভাবে দুই রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন?” তাঁর অভিযোগ, পবিত্র বিজেপির প্রতীকে জয়ী পঞ্চায়েত সদস্য হয়েও তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে লড়ছেন, যা আইনবিরুদ্ধ। এই মন্তব্যের পরেই বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন।

    পবিত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। যদিও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পবিত্র জানান, তিনি প্রথমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, আইনের পথেই তিনি এগোবেন। সেই অনুযায়ী শুক্রবারই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। আইন অনুযায়ী, কোনও জনপ্রতিনিধি দলবদল করে অন্য দলের প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়তে চাইলে তাঁকে পূর্ববর্তী পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। এই প্রেক্ষিতে জানা গিয়েছে, পবিত্র ২০২৩ সালে বিজেপির প্রতীকে বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০২৬ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রার্থী হলেও তিনি সেই পদ থেকে ইস্তফা দেননি বলে অভিযোগ। সেই মামলার শুনানিতে আপাতত স্বস্তি পেলেন পবিত্র।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)