• ভোটের আগে রাজ্যপালের মুখে 'পরিবর্তন', ক্ষুব্ধ মমতা; বাড়ছে চাপানউতোর
    আজ তক | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • 'পরিবর্তন'-এই শব্দকেই হাতিয়ার করে ২০১১ সালে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পয়লা বৈশাখে পশ্চিমবঙ্গের রাজভবনে  এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেই শব্দ ব্যবহার করলেন রাজ্যপাল আর. এন. রবি। তারপর থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। 

    পয়লা বৈশাখের উৎসবকে শুধুমাত্র আনন্দের দিন হিসেবে না দেখে আত্মসমালোচনা ও 'পরিবর্তন'-এর অঙ্গীকার নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে রাজ্যের যুবসমাজকে ইতিবাচক থাকার এবং পরিবর্তনের অংশীদার হওয়ার বার্তা দেন। তারপর থেকেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজ্যপাল দ্বৈরথ। 

    রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, একসময় দেশের মোট জিডিপিতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান ছিল ১০ শতাংশের বেশি, যা বর্তমানে কমে প্রায় ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি তিনি MSME ক্ষেত্রেও রাজ্যের পিছিয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, দেশে ৫.৫ কোটির বেশি নিবন্ধিত MSME থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যা মাত্র প্রায় ৩ লক্ষ। শিক্ষা ক্ষেত্রেও রাজ্যের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে।

    রাজ্যপালের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে এক নির্বাচনী সভা থেকে তিনি রাজ্যপালকে ‘লাটসাহেব’ বলে কটাক্ষ করেন এবং অভিযোগ করেন যে রাজ্যপাল তাঁকে অপমান করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর বদলে রাজ্যপাল তাঁর সমালোচনা করেছেন, যা তিনি মেনে নিতে পারেন না।

    একই সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ রাজ্য সরকারের হাতে নেই, ফলে হিংসার ঘটনা বাড়ছে। তিনি মোথাবাড়ি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন, যেখানে বিক্ষোভকারীরা কয়েকজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রেখেছিল।

    রাজনৈতিক মহলে এই 'পরিবর্তন' শব্দকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০১১ সালে এই পরিবর্তনের স্লোগান দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি-ও গত কয়েক বছর ধরে একই স্লোগান তুলে ধরছে।

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের দাবিতে ইতিমধ্যেই একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁদের বক্তব্যেও বারবার উঠে এসেছে ‘পরিবর্তন’-এর প্রসঙ্গ।

    এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের বক্তব্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক স্লোগানের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে পয়লা বৈশাখের মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া ‘পরিবর্তন’ বিতর্ক এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।
  • Link to this news (আজ তক)