Balurghat Postal Ballot Chaos News: দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে চড়ল উত্তেজনার পারদ। বৃহস্পতিবার বালুরঘাটের ললিত মোহন আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তাতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন ভোটারদের একাংশ। অভিযোগের তির মারাত্মক, ভোটবাক্সে ছিল না কোনও তালা, ছিল না সিল বা গালার চিহ্ন। খোলা বাক্সে অবাধে ব্যালট জমা নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন ভোটকর্মীরাই।
শুধু তাই নয়, গোপনীয়তার বালাই নেই, নেই কোনো কড়াকড়ি। ললিত মোহন স্কুলে ভোট দিতে আসা কর্মীদের একাংশের দাবি, বুথের ভিতরে অবাধে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হচ্ছিল। কে কাকে ভোট দিচ্ছেন, তার গোপনীয়তা রক্ষা করা তো দূরস্থান, মোবাইলের মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় স্কুল চত্বর। শোরগোল শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ভোট পর্যবেক্ষক, বালুরঘাট থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাস এবং ডিএসপি (হেড কোয়ার্টার) বিক্রম প্রসাদ। সঙ্গে ছিল বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী।
ঘটনার খবর ছড়াতেই স্কুলে হাজির হন বিজেপি প্রার্থী বিদ্যুৎকুমার রায় ও জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার। অন্যদিকে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ময়দানে নামেন তৃণমূলের শহর সহ-সভাপতি সুরজিৎ সাহা ও অমরনাথ ঘোষেরা। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, "তৃণমূলের লোকজন গায়ের জোরে বুথে ঢুকে ভোট প্রভাবিত করছিল। খোলা ব্যালট বক্সই প্রমাণ করে দিচ্ছে এখানে গণতন্ত্রের কী দশা!" পাল্টা তৃণমূলের দাবি, বিজেপিই কমিশনকে ব্যবহার করে ভোট নিয়ে প্রহসন করার চেষ্টা করছিল। দুই পক্ষই এখন কমিশনের দরজায় কড়া নাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে কড়া অবস্থান নেয় পুলিশ। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে স্কুল চত্বর থেকে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মী ও বহিরাগতদের বের করে দেওয়া হয়। বালুরঘাট টাউন তৃণমূলের সহ-সভাপতি সুরজিৎ সাহা পরে জানান, সিল-গালা ছাড়া ভোট হওয়ার বিষয়টি তারা প্রশাসনকে জানিয়েছেন। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ভোট প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে ভোটের মুখে ললিত মোহন স্কুলের এই ঘটনা বালুরঘাটের রাজনৈতিক আবহকে যে আরও তপ্ত করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।