সংসদের বিশেষ অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে নরেন্দ্র মোদির ভাষণ চলাকালীন নাটকীয় মোড়। নারী সংরক্ষণ নিয়ে বিরোধীদের বিঁধে মোদি বক্তব্যের মাঝেই সুর চড়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। সংসদে দাঁড়িয়েই কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে মোদির বক্তব্যের মাঝে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশে এই বিল পাশে তোড়জোড় মোদি সরকারের। ‘বাংলার ভোটের ফলের পর অমিত শাহের সঙ্গে আবির খেলা হবে।’ সংসদে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ কল্যাণের।
সংসদে মোদি বলেন, “নারী সরক্ষণ বিলের সমর্থন আসলে দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে, যাঁরা এই বিলের বিরোধিতা করবেন, দেশের মহিলারা তাদের ক্ষমা করবেন না।” এই বক্তৃতার পরেই সরগরম হয়ে ওঠে সংসদের অন্দরমহল। বিরোধীরা হইহট্টগোলে শুরু করেন। বিরোধী সাংসদদের প্রতিবাদের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের কার্যত খোঁচা দিয়ে বলেন, “এই বিলের নেপথ্যে অনেকেই আমার রাজনৈতিক স্বার্থ দেখছেন।” এরপরই আরও সুর চড়ান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
মোদির বক্তব্যের রেশ ধরেই সংসদে অভিযোগ তোলেন, পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশেই এই বিল পাশে তোড়জোড় মোদি সরকারের। “আমি এখানে দাঁড়িয়ে অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি ৪ তারিখ পশ্চিমবঙ্গে উপস্থিত থাকার জন্য। ভোটের ফল প্রকাশের পর শাহের সঙ্গে আবির খেলব আমরা।” লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা কল্যাণকে থামানোর চেষ্টা করতে গেলে ব্যাঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তাঁকে বাধা দেন মোদি। কল্যাণকে কার্যত একহাত নিয়ে মোদি বলেন, “নিজের জায়গায় তো (পশ্চিমবঙ্গ) মুখে তালা থাকে, এখানে অন্তত বেচারাকে কথা বলতে দিন।” মোদির কটাক্ষের পরেই সংসদ ভবন অট্টহাসির শব্দে গমগম করে ওঠে।
এদিন লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরুতেই বিলের উপযোগিতা বিশদে ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। নারীদের আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন, তাঁদের ক্ষমতাবৃদ্ধি প্রয়োজন। এই বিল সেই দিশা দেখিয়েছে। সবাই মিলে বিলটি পাশ করার জন্য আবেদন জানান তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে কিছুটা বিদ্রুপ মিশিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জবাব, “এর মধ্যে রাজনীতি দেখছেন আপনারা? বিরোধিতা করুন চাইলে, তাতেও আমারই সুবিধা হবে। আর সবাই মিলে যদি সমর্থন করেন, তাহলে সুবিধা পাবেন আপনারা সবাই।” বৃহস্পতিবার লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন বিরোধীদের হইহট্টগোল উপেক্ষা করেই মোদি নিজের বক্তব্য পেশ করেন।