‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ অর্থাৎ মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিলের আড়ালে আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation Bill 2026) করে দক্ষিণী রাজ্যগুলিকে গৌণ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, এমনই অভিযোগ এনেছে বিরোধীরা। কিন্তু সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে বললেন, দক্ষিণী রাজ্যগুলি কোনওভাবে বঞ্চিত হবে না। তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানালেন, দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমবে না, বরং বাড়বে।
কোন মাপকাঠির ভিত্তিতে বাড়ানো হবে লোকসভার আসন? সেটা নিয়েই যত বিতর্ক। সরকারের একটা সূত্র বলছে, ২০১১ জনগণনা অনুযায়ী আসন বাড়াবে কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ শেষবার আসন পুনর্বিন্যাসের পর থেকে উত্তর ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দক্ষিণ বা পূর্ব ভারতের তুলনায় অনেক বেশি। এখানেই আপত্তি বিরোধীদের। তাঁরা মনে করছেন, গোবলয়ের রাজ্যগুলিতে বেশি আসন থাকার দরুণ ওই রাজ্যগুলিতেই বেশি গুরুত্ব দেবে রাজনৈতিক দলগুলি। অন্য রাজ্যগুলি গুরুত্ব হারাবে।
কিন্তু বিরোধীদের এই অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন বলে সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন মোদি। তাঁর কথায়, “আমরা ভারতকে কোনও অংশে ভাগ করে দেখি না। পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দকশিণ-কোনও রাজ্যের প্রতি অবিচার হবে না এটা আমার গ্যারান্টি।” সরকার সূত্রে শোনা যাচ্ছে, বর্তমানে যে রাজ্যে যতগুলি লোকসভা আসন রয়েছে সেটারই ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী নিজে সংসদে এই কথা বলেননি।
মোদির পর বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। তিনি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “দক্ষিণী রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমবে না, বরং বাড়বে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, তামিলনাড়ুতে ২০টি আসন বাড়বে। কেরলে ১০, তেলেঙ্গানায় ৯, অন্ধ্রপ্রদেশে ১৩টি আসন বাড়বে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশে বাড়তে পারে ২৪টি আসন।” কীসের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সেটা অবশ্য স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, আসন পুনর্বিন্যাস করে লোকসভার আসন ৮৫০ পর্যন্ত করতে চাইছে কেন্দ্র। এর মধ্যে ৩৫টি আসন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে, বাকি ৮১৫টি আসন থাকবে রাজ্য থেকে।