তৃণমূল, বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ‘জনগণের চার্জশিট’
আনন্দবাজার | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
রাজ্যে এসে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে এক পঙ্ক্তিতে রেখে দুই শক্তিকেই হারানোর ডাক দিয়ে গিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এই সূত্র ধরেই এ বার তৃণমূল ও বিজেপি-র বিরুদ্ধে যথাক্রমে ১৪ ও ১৮টি অভিযোগ তুলে ‘জনগণের চার্জশিট’ পেশ করল কংগ্রেস। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই বিজেপি ও তৃণমূল, পরস্পরের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে নানা অভিযোগ তুলেছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের দফতর বিধান ভবনে বৃহস্পতিবার ওই চার্জশিট প্রকাশ করেছেন রাজ্যে কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ অন্যেরা। মীর বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে যত দিন কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল, তত দিনই এখানে কিছু মূলগত উন্নয়ন ঘটেছিল। কমিউনিস্ট-আমলে কিছু হয়নি। আর তৃণমূল আমলে যেটুকু ছিল, তার সবটাই শেষ হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত বেকারদের কাজের খোঁজে বাইরের রাজ্যে যেতে হচ্ছে।” প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্করও বলেছেন, “এক দিকে তৃণমূল, অন্য দিকে বিজেপি। মাঝে নির্বাচন কমিশন। ইচ্ছাকৃত ভাবে এমন মেরুকরণ তৈরি করা হচ্ছে, যেন অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এই চার্জশিটের মূল কথা, তৃণমূল সরকারের পরিবর্তন করতে হবে এবং বিজেপিকে রুখতে হবে।” তৃণমূল আমলে মানুষের ‘জীবন-যন্ত্রণা’ এবং রাজ্যের সরকারি বিরোধী দল হিসাবে ভূমিকা পালনে বিজেপির ‘ব্যর্থতা’র কথাও এ দিন বলেছেন শুভঙ্করেরা।
রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট-রাজ, শিক্ষক নিয়োগ-সহ নানা ক্ষেত্রের দুর্নীতি, নারী নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় ব্যর্থতা, রাজনৈতিক হিংসা, বেকারত্বের মতো বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। পাশাপাশি, বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বাংলা-বিরোধী মনোভাব, রাজ্যের মনীষীদের অপমান করা, বিভাজনের রাজনীতি, বহুত্ববাদকে অস্বীকার করা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির মতো নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে।