• বাড়ল আমেরিকা থেকে এলপিজি আমদানি, দেশে গ্যাসের জোগান ঠিক রাখতে মরিয়া কেন্দ্র
    আনন্দবাজার | ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • আমেরিকা-ইরানের মধ্যে এখন যুদ্ধবিরতি। তা আরও বাড়বে কি না কিংবা দু’পক্ষের দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক হবে কি না,হলে যুদ্ধ পুরোপুরি থামবে কি না— এমন সব হাজারও প্রশ্নের মধ্যেই দেশে জ্বালানির পরিস্থিতি শোধরাতে মরিয়া মোদী সরকার। বৃহস্পতিবার তারা জানাল, দেশে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) কোনও সঙ্কট নেই। এ মাসের প্রথম ১৪ দিনে আমেরিকা থেকে ১.৪২ লক্ষ টন এসেছে। যা মোট আমদানি হওয়া এলপিজির ২৭%। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে এসেছে ১.৪১লক্ষ টন, সৌদি আরব থেকে ৯২ হাজার, কাতার থেকে ৮২ হাজার এবং কুয়েত থেকে ১১ হাজার টন। ইরান এবং আর্জেন্টিনাও যথাক্রমে ৪৩ হাজার টন এবং ১১ হাজার টন এলপিজি জুগিয়েছে। তবেসংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির আবহে জ্বালানি নিয়ে ভারতেরচিন্তা বহাল। কারণ, দেশ এখনও আমদানি নির্ভর।

    সরকারি সূত্রের বক্তব্য, সামগ্রিক আমদানির নিরিখে মার্চের এই সময়ে যে পরিমাণ এলপিজি এসেছিল দেশে, এপ্রিলে তা খুব একটা বদলায়নি। তবে ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় অর্ধেক কমেছে। বিশেষজ্ঞ সংস্থা কেপলারের তথ্য বলছে, এপ্রিলে দৈনিক ৩৭ হাজার টন করে এলপিজি আমদানি করেছে দেশ। যা ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ছিল যথাক্রমে প্রায় ৭৩ হাজার টন এবং ৪০ হাজার টন। এর আগে কেন্দ্র দেশে এই জ্বালানির উৎপাদন বেড়েছে বলে বার্তা দিলেও কেপলারের দাবি, এখন তা ৮-১০ শতাংশ কমেছে। মার্চে দৈনিক প্রায় ৫০ হাজার টন এলপিজি তৈরি হচ্ছিল। এপ্রিলে হচ্ছে ৪৫-৪৬ হাজার। দৈনিক চাহিদা কমবেশি ৮০ হাজার টন।

    কেপলারের কর্তা নিখিল দুবে জানান, এলপিজি নিয়ে বর্তমান অবস্থা সত্যিই চিন্তার। আশা করা যায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার দিকে এগোবে। যুদ্ধের আগে দেশে আমদানি হওয়া মোট এলপিজি-র ৫৪ শতাংশই আসত পশ্চিম এশিয়া থেকে। এখন সেই পথ বন্ধ। অন্য দিকে, দেশে এলপিজি তৈরির উপর জোর দেওয়ায় মার্চে সব শোধনাগার তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে ৫০ হাজার টন মতো দৈনিক উৎপাদন করেছে। কিন্তু এপ্রিলে তা প্রায় ১০% কমেছে।কেপলারের মতে, এটা স্বাভাবিক। তবে কী করে ঘাটতি মিটবে উদ্বেগ থাকছে। সম্প্রতি আইওসি-র চেয়ারম্যানও কলকাতায় এসে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘যুদ্ধ না থামলে সমস্যা বাড়তে পারে। জোগানে ঘাটতি দাম আরও বাড়াতে পারে এলপিজির।’’

    এই অবস্থায় রাশিয়া এবং ইরান থেকে তেল কেনার উপরেও ফের নিষেধাজ্ঞা বসিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এই দু’টি দেশই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ নিয়ে ভারতকে জ্বালানি জোগাচ্ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশ, এই সব তেল কিনতে যে এক মাসের ছাড় ভারত-সহ একাধিক দেশকে দেওয়া হয়েছিল, তা আর বাড়ছে না।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)