• সংবিধান সংশোধন বিল নিয়ে সুর চড়ালেন মমতা, অভিষেক! মহিলাদের জন্য সংরক্ষণে বিজেপির সদিচ্ছা সম্পর্কে প্রশ্ন
    আনন্দবাজার | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • দিনের শুরুতের চড়া সুর বেঁধে দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভায় তখন মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে তরজা চলছে সরকার ও বিরোধী পক্ষের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ চালুর উদ্যোগে ব্যর্থ হতেই বার্তা এল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভায় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে।

    বিরোধীদের অভিযোগ, মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিলকে শিখণ্ডী করে আসলে লোকসভার আসন বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি। জনগণনার আগেই সুবিধামতো আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির প্রভাব খর্ব করে উত্তর ভারতের আসনের অনুপাত বাড়িয়ে নেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য বলে অভিযোগ। দক্ষিণের চেয়ে উত্তর ভারতে বিজেপির প্রভাব বেশি। তাই এ ক্ষেত্রে তাদের সুবিধা হবে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অধিবেশনে কেন্দ্রের এই বিল নিয়ে বিতর্ক চলছে লোকসভায়। এ প্রসঙ্গে মমতা দমদমের সভা থেকে জানান, মহিলা সংরক্ষণ বিল তাঁরা সমর্থন করবেন। কিন্তু তার সঙ্গে অন্য কোনও বিল আনা হলে সমর্থন করা হবে না।

    দমদমের সভায় মমতা বলেন, ‘‘ডিলিমিটেশন বিল আর মহিলাদের সংরক্ষণ বিল একসঙ্গে নিয়ে আসতে চাইছে। মহিলাদের এত অসম্মান করো। আমাদের এখানে পুরসভা, পঞ্চায়েতে ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ রয়েছে। আমাদের ৩৭ শতাংশ মহিলা লোকসভায় নির্বাচিত। মহিলা বিল আমরা সমর্থন করব। কিন্তু তার সঙ্গে অন্য কিছু আনতে যেয়ো না। ডিলিমিটেশনকে সমর্থন নয়। দেশটাকে আপনারা টুকরো টুকরো করতে চাইছেন। বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই ডিলিমিটেশন আমরা মানি না।’’ লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে কেন্দ্রের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পরেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফোনে কথা বলেন অভিষেকের সঙ্গে। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণের বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য অভিষেককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাহুল। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট শুরুর এক সপ্তাহ আগে দুই শীর্ষ নেতার এই কথোপকথন ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

    শুক্রবার রাতে অভিষেক সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘লোকসভায় ডিলিমিটেশন বিলের পরাজয়ের পরিণতিতে যে বিজেপি বেকায়দায় পড়েছে, তা এ বার স্পষ্ট হল। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিতকারী ‘উইমেনস রিজ়ার্ভেশন অ্যাক্ট’ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছিল।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘এনডিএ সরকার যদি সত্যিই আন্তরিক হয়, তা হলে অবিলম্বে বিলটি এগিয়ে এনে এক-তৃতীয়াংশ আসন চিহ্নিত (নোটিফাই) করা উচিত। এখনই করুন! তৃণমূল কেবল নীতিগত ভাবে বিলটিকে সমর্থনই করেনি, বরং বাস্তবে বিলের প্রস্তাবকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সংসদে বেশি মহিলাদের জন্য ৪১ শতাংশেরও বেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে।’’ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বিধানসভা ভোটের আবহে অভিষেকের বিবৃতিতে এসেছে বিরোধী ঐক্যের বার্তাও! তিনি লিখেছেন, ‘‘সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল ২০২৬-কে ভারত (ইন্ডিয়া) প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ, লোকসভার আসন বাড়িয়ে ৮৫০টি করা এবং ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করার প্রচেষ্টা গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এনডিএ সরকার স্পষ্টতই ধার করা সময়ে চলছে এবং নিয়ন্ত্রণের ভ্রম চোখের সামনে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে!’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)