ভোট যত এগিয়ে আসছে, নিরাপত্তা-পরিকল্পনা তত বেশি মজবুত করার পথে হাঁটছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, অতিরিক্ত আরও প্রায় ১৫০ কোম্পানি বাহিনী আনার সিদ্ধান্ত একপ্রকার নিয়ে ফেলেছে তারা। শেষপর্যন্ত তা কার্যকর হলে প্রথম দফার ভোটেই ব্যবহার হতে পারে প্রায় ২৫৫০ কোম্পানি বাহিনী। আগের পরিকল্পনায় তা ছিল প্রায় ২৪০০ কোম্পানি। একই সঙ্গে কমিশনের সিদ্ধান্ত, ভোট হলেই ফিরে যাবে না বাহিনী। ভোট পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে যতদিন প্রয়োজন ততদিনই বাহিনী থাকবে জেলায় জেলায়। মনে করা হচ্ছে, উপদ্রুত এলাকার ভোটারদের আশ্বস্ত করতেই এই সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে, রাজ্য পুলিশের বাহিনী ঘাটতি সামলাতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং নিরাপত্তা অধিকর্তাকে দিয়েছে কমিশন।
কয়েক দিন আগেই ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলেছিল কমিশন। সম্প্রতি জানা যাচ্ছে, আরও বাহিনী আনা হতে পারে। সব ঠিক থাকলে প্রথম দফার আগেই অতিরিক্ত প্রায় ১৫০ কোম্পানি বাহিনী চলে আসতে পারে রাজ্যে। সে ক্ষেত্রে তাদের মোতায়েন পরিকল্পনাতেও কিছু বদল আসবে। কারণ, তখন প্রায় ২ লক্ষ জওয়ানকে ভোটের নিরাপত্তায় ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে কমিশনের কাছে। আধিকারিকদের একাংশের অনুমান, তখন এলাকায় টহলের কাজে বাড়তি জওয়ানদের কাজে লাগতে পারে কমিশন। ইতিমধ্যেই অসহায়-ভীত (ভালনারেবল) ভোটারদের ভরসা জোগাতে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্বে থাকা আধিকারিকেরা বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় সশরীরে পৌঁছচ্ছেন, দিচ্ছেন নিরাপত্তার আশ্বাস-বার্তাও। তবে এর পরেও ভোটের দিন এলাকায় এলাকায় অবৈধ অবরোধ-গোলমাল ঠেকাতে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত টহলদারি চালাবে নিরাপত্তাবাহিনী। আগের তুলনায় বেড়েছে কুইক রেসপন্স টিম এবং অন্যান্য নজরদারি বাহিনীর সংখ্যা। যে ভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাতে কোথাও কোনও গোলমালের তথ্য পাওয়া গেলে সর্বাধিক ১৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে বাহিনী পৌঁছনোর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
অতীতের ভোটগুলির পরে হিংসা-অশান্তি-রক্তপাত-প্রাণহানি ঠেকানো যায়নি। ফলে এ বার ভোটের পরে অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাহিনী জেলায় জেলায় রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও গত ভোটগুলির পরেও অল্প সংখ্যক বাহিনী রাখত কমিশন। কিন্তু কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা তাতে ঠেকানো যায়নি। তাহলে এ বার তা ঠেকানো যাবে, তার নিশ্চয়তা কোথায়? এক কর্তার কথায়, “বিগত সময়গুলির সঙ্গে এবারের পদক্ষেপের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। বাহিনী সক্রিয় থাকবে এবং তারা উপযুক্ত পদক্ষেপই করবে। ততদিন পর্যন্ত বাহিনী কাজ করবে, যতদিন তার প্রয়োজন থাকবে। পুরো ২৫৫০ কোম্পানি বাহিনী থাকবে না। তবে এমন সংখ্যক বাহিনী থাকবে, যাতে জেলার কোথাও কোনও সমস্যা হলে বাহিনী পাঠানো যায়।”
অন্য দিকে কমিশন জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশের সংখ্যায় অনেক ঘাটতি রয়েছে। তাতে বুথস্তর পর্যন্ত সেই পুলিশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কমিশনের নির্দেশ, বিধি-নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাঁদের যত নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তা খতিয়ে দেখতে হবে নিরাপত্তা অধিকর্তাকে। বিধির বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সেই নিরাপত্তায় নিযুক্ত থাকলে তা প্রত্যাহার করতে হবে। জেলা পুলিশ সুপারদের বলা হয়েছে, শুধু তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে, আক্রান্ত হওয়া বা জীবনের ঝুঁকি রয়েছে যাঁদের। তার বাইরে কারও জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা যাবে না।