সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার বা পরিবারের প্রবীণ সদস্যের হাতেই ভোটার স্লিপ দেওয়ার বিধি জানিয়ে দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এ বার সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বকেয়া থাকা ভোটার স্লিপ কেন বিলি করা যায়নি, সেই তথ্য বিএলও-দের জানাতে হবে প্রিসাইডিং অফিসারকে। ভোট দিতে আসা ব্যক্তির ভোটার তালিকায় নাম, ছবি দেখে ভোটদানে অনুমতি দেবেন প্রিসাইডিং অফিসার। কমিশনের ব্যাখ্যা, বাদ পড়া ভোটারদের কেউ যাতে ঘুরপথে ভোট দিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।
ভোটের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুক্রবার রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ অন্য পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন। আজ, শনিবার জেলাশাসক, এসপি, ওসি-আইসি-দের সঙ্গে বৈঠক করার কথা কমিশনের। ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে কী কৌশল হবে, কার কী দায়িত্ব, তা জানানো হতে পারে। কমিশনের সিদ্ধান্ত, এ বারের ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য পুলিশের মতো মাইক্রো অবজ়ার্ভারদেরও বডি ক্যামেরা থাকবে। আসন্ন ভোটে কী ধরনের আচরণ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হতে পারে। সূত্রের দাবি, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটার বৃত্তের মধ্যে ভোটার ও বিধিসম্মত ভোটকর্মী ছাড়া আর কারও প্রবেশাধিকার থাকবে না। সেই সীমানার বাইরে বিএলও, এক জন সরকারি আধিকারিক ভোটারদের নথি যাচাই করবেন। সীমানার মধ্যে আরও একটি স্তরে ভোটার-নথি যাচাই হবে।
পূর্ব ঘোষণা মতোই জেলা সদর বা মহকুমা সদরে গণনাকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার তারা যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে মোট ৮৭টি গণনাকেন্দ্র থেকে। গত বিধানসভা ভোটের তুলনায় এ বার গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে অনেকটাই। অন্য দিকে, আবাসনে ভোটকেন্দ্র বা বুথ তৈরির সিদ্ধান্তে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বেড়েছে।
কমিশনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, জেলা সদরে ভোটগণনা কেন্দ্র থাকছে ৪৪টি এবং মহকুমা সদরে ৪৩টি। ২০২১ সালে গণনাকেন্দ্র ছিল শতাধিক। আবার গত লোকসভা ভোটে অন্তত ৯০টি গণনাকেন্দ্র তৈরি হয়েছিল। তালিকা অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনার গণনাকেন্দ্র হবে আটটি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১২টি, কলকাতায় ৫টি। এর মধ্যে উত্তর কলকাতা জেলার অধীনে থাকা বিধানসভা কেন্দ্রগুলির ভোট গণনা হবে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম থেকেই। দক্ষিণ কলকাতা জেলার অধীনে থাকা আসনগুলির গণনা হবে চারটি গণনাকেন্দ্রে। কমিশন সূত্রের খবর, ৪৬৬০টি অগ্জ়িলিয়ারি-সহ রাজ্যের মোট ৮৫ হাজার ৩৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল।
অন্য দিকে, যাদবপুর, বেহালা পূর্ব ও পশ্চিম, মহেশতলা, এন্টালি, বেলেঘাটা, রাসবিহারী, মানিকতলা, উত্তরপাড়া, চাঁপদানি, চন্দননগর, মধ্য হাওড়া, খড়দহ, দমদম, রাজারহাট-নিউটাউন, বিধাননগর, রাজারহাট-গোপালপুর, কসবা, বর্ধমান উত্তর, বালি এলাকায় অনেকগুলি বহুতলে বুথ তৈরি হবে।