বিধানসভা নির্বাচনের আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরার ঢল বীরভূমে। জীবিকার ঝুঁকি নিয়েও অনেকে ফিরছেন ভোট দিতে। আবার অনেকের এই মুহূর্তে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা না থাকলেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় ট্রাইবুনালে আবেদনের জন্য ফিরতে হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার সকালে এমনই ছবি দেখা গেল বোলপুর স্টেশনে।
ভিন রাজ্য থেকে বোলপুর স্টেশনে নামা পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই জানালেন, ভোট না দিলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে তাঁদের। অনেকের শঙ্কা, ভোট না দিলে নাগরিকত্ব হারাবেন তাঁরা। নানুর, লাভপুর, বোলপুর, পাড়ুই ও ইলামবাজার ব্লকের কয়েক হাজার পরিযায়ী শ্রমিক কেরল, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নথি যাচাইয়ের সময় তাঁদের অনেকেই বাড়ি ফিরেছিলেন।
এ বার ভোটের আগে তাঁদের ফেরাতে সক্রিয় হয়েছে তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম-সহ সব রাজনৈতিক দলই। জানা যাচ্ছে, কোথাও কর্মী বৈঠক, কোথাও সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাঁদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে। এই তৎপরতার ফলেই শ্রমিকদের ঢলের ছবি ধরা পড়ছে বোলপুর স্টেশনে। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত একাধিক ট্রেনে নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে নেমেছে কয়েকশো শ্রমিক।
দীর্ঘ যাত্রা, অনিশ্চিত টিকিট— সব বাধা পেরিয়ে দুই দিন বা তারও বেশি সময় ট্রেনযাত্রা শেষে ফিরেছেন বোলপুরের সিয়ান এলাকার বাসিন্দা চারণ কিস্কু, শিব মুর্মু। বোলপুর স্টেশনে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁরা বললেন, “ট্রেনের টিকিটের হাহাকার চলছে। কোনও ভাবে অসংরক্ষিত কামরার টিকিট কেটেই রওনা দিই। তিন দিন ধরে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে ট্রেনে এসেছি।’’ তাঁদের সংযোজন, ‘‘কাজ গেলে যাক। কিন্তু এ বারের ভোটটা গুরুত্বপূর্ণ। ভোট নাদিতে পারলে যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে যায়, বড় বিপদ হয়ে যাবে!’’
বোলপুরের গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা, পরিযায়ী শ্রমিক সোম মাড্ডি, সুকল কিস্কুর কথায়, “চেন্নাইয়ে রাজমিস্ত্রির কাজে গিয়েছিলাম। ভোটার তালিকায় আমাদের নাম থাকলেও বাকি অনেকের নাম বাদ গিয়েছে। ভোট না দিতে পারলে কী হবে, তা নিয়ে মনে ভয় কাজ করছে। তাই এত কষ্ট সহ্য করে বাড়ি ফেরা।”
বিদায়ী মন্ত্রী ও বোলপুরের তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, “আমাদের সরকার রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বোর্ড গঠন, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প, বিশেষ পরিচয়পত্র, বিনা সুদে ঋণ ও পেনশন সুবিধা চালু রয়েছে। এমনকি তাঁদের ভোটের সময় বাড়িতে ফেরাতেও উদ্যোগী হয়েছে আমাদের দল। তবে নির্বাচন কমিশনের জন্য এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।” বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল পাল্টা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কাজ না থাকার কারণেই জেলার এত মানুষকে বাইরে যেতে হচ্ছে। এই সরকার কোনও শিল্প বা কলকারখানা করেনি। সামনে নির্বাচনে মানুষ যোগ্য জবাব দেবে।’’