• জীবন-বার্তায় লাভের অঙ্ক কষছে বিজেপি
    আনন্দবাজার | ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানালেন কেএলও-এর প্রধান জীবন সিংহ। শুক্রবার এক ভিডিয়ো বার্তায় (আনন্দবাজার ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি) জীবন আবেদন করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কেএলও-র শান্তি চুক্তি, কোচ-রাজবংশী পৃথক রাজ্য গঠন এবং মাতৃভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত শক্ত করতে বিজেপিকে ভোট দিতে হবে। সংক্ষিপ্ত ভিডিয়ো বক্তৃতায় আদিবাসী সমাজের সম্বোধনসূচক ‘জয় জোহার’ বলতেও শোনা গিয়েছে জীবনকে। তৃণমূলের কটাক্ষ, জীবন সিংহ দীর্ধদিন ধরেই বিজেপির আশ্রয়ে রয়েছেন এবং রাজনৈতিক ভাবে বিজেপি তাঁকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে দাবি। রাজবংশী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রস্তাব রাজ্যের তরফে আগেই দিল্লিতে পাঠানো রয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি।

    এ দিকে কামতাপুরী স্টেট ডিমান্ড কমিটি (কেএসডিসি) নামে একটি মঞ্চ উত্তরবঙ্গের চার জেলার বিভিন্ন আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তারা সেই সব প্রার্থী প্রত্যাহার করে বিজেপিকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে। উত্তরবঙ্গ জুড়ে ২৭ আসনে প্রার্থী রয়েছে কেএসডিসি। যদিও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, রাজগঞ্জ-সহ বেশ কিছু আসনের প্রার্থীরা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি বলে বিবৃতি দিয়েছেন। কেএসডিসি-র সভানেত্রী তপতী রায় মল্লিক নিজেও ময়নাগুড়ি আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তপতী বলেন, ‘‘বিজেপি আশ্বাস দিয়েছে আমাদের ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করবে। তাই আমরা প্রচারও করব না। আমরা বিজেপিকে সমর্থন করব।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তরবঙ্গে এসে প্রতিটি জনসভায় রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অর্ন্তভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গে রাজবংশী-কামতাপুরী প্রধান ২৭টি আসনে কেএসডিসির প্রার্থী ছিল। তাঁদের ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা এবং জীবন-বার্তা মিলিয়ে এই আসনগুলিতে লাভের অঙ্ক কষছে বিজেপি। যদিও তৃণমূলের দাবি, পুরোটাই পরিকল্পনা মাফিক। কেএসডিসি যে ভোট পেত সেটি বিজেপিরই ভোট। তৃণমূলের ভোট কমবে না। তৃণমূল মন্ত্রিসভার বিদায়ী উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, ‘‘এমনিতেই এদের কোনও ভোট নেই। তাই কাউকে সমর্থন করা বা না করার মধ্যে কিছু যায় আসে না।’’ জলপাইগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী তথা তৃণমূলের এসসি-ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাস বলেন, ‘‘জীবন সিংহ যখন আত্মসর্ম্পণ করেন তখনও অষ্টম তফসিল এবং নারায়ণী সেনার কথা ছিল। জীবন সিংহকে আটকে রেখেও বিজেপি কিছু দেয়নি, এখন এ সব কথা রাজবংশীরাও বিশ্বাস করে না। জীবন সিংহকে ওরা পাঁচ-সাত বছরে মেরে দেবে।’’

    জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়ের মন্তব্য, ‘‘আসলে তৃণমূলের সব মিথ্যে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে, তাই এত ভয়।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)