নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানে কড়াকড়ির জেরে টান পড়েছে রান্নার গ্যাসের সরবরাহে। কেন্দ্র যতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার দাবি করুক, সরকারি তথ্য কিন্তু ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তেল মন্ত্রকের পেট্রলিয়াম প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস সেল (পিপিএসি) জানিয়েছে, বার্ষিক ভিত্তিতে গত মার্চ মাসে রান্নার গ্যাসের ব্যবহার প্রায় ১৩ শতাংশ কমে গিয়েছে। ওই মাসে দেশে মোট রান্নার গ্যাস ব্যবহার হয়েছে ২৩ লক্ষ ৭৯ হাজার টন। গত বছরের মার্চে যা ছিল ২৭ লক্ষ ২৯ হাজার টন। যা ১২.৮ শতাংশ কম।
ভারতে যত এলপিজি প্রয়োজন হয়, তার ৬০ শতাংশই আমদানি করানো হয়। যার বেশিরভাগটাই আসে হরমুজ হয়ে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধ শুরু হতেই ওই পথে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তেহরান। ফলে এলপিজি আমদানিও ব্যাপক ধাক্কা খায়। তার জেরে রান্নার গ্যাস ও বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে দেশজুড়ে কড়াকড়ি শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার। পিপিএসি জানিয়েছে, বাড়িতে ব্যবহারের জন্য রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি মার্চ মাসে ৮.১ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের বিক্রি কমেছে প্রায় ৪৮ শতাংশ। একসঙ্গে অনেক সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়, এমন ক্ষেত্রে বিক্রি কমেছে ৭৫ শতাংশের বেশি।
যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উত্পাদনের উপর জোর দিতে নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চে এলপিজি উত্পাদন বেশ কিছুটা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বার্ষিক এলপিজি উত্পাদনেও। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১ কোটি ৩১ লক্ষ টন এলপিজি উত্পাদন হয়েছে। যা তা আগের দুটি আর্থিক বছরের তুলনায় বেশ কিছুটা বেশি। চলতি বছরের মার্চ বাদ দিলে সদ্য সমাপ্ত আর্থিক বছরে এলপিজি ব্যবহার ৬ শতাংশ বেড়েছে। যদিও যুদ্ধের মধ্যেও পেট্রল ও ডিজেল বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। পেট্রল বিক্রির পরিমাণ ৭.৬ শতাংশ বেড়ে ৩৭ লক্ষ ৮ হাজার টন হয়েছে। ডিজেল বিক্রির পরিমাণ ৮.১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮৭ লক্ষ ২৭ হাজার টন। নেপথ্যে কি জোগানে ঘাটতির আশঙ্কায় বেশি করে জ্বালানি কিনে রাখার তাগিদ?