এই সময়, কোতুলপুর: জিতেছেন এক দলের প্রার্থী হয়ে, জেতার কিছু দিন পরে করেছেন দলবদল। ২০১১ থেকে গত ১৫ বছরের তিনটি বিধানসভা ভোটের মধ্যে দু’টিতে এমনই অভিজ্ঞতা হয়েছে বাঁকুড়া জেলার কোতুলপুর কেন্দ্রের ভোটারদের। তাঁরা অনেকেই কিছুটা ব্যঙ্গের সুরে বলছেন, এখানে জিতলে দল না–বদলালে যেন দর থাকে না।
এ বার এই কেন্দ্রে রাজ্যের শাসকদল যাঁকে প্রার্থী করেছে, সেই হরকালী প্রতিহার ২০২১–এ এখানে জিতেছিলেন পদ্ম–প্রার্থী হয়ে। ২০২৩–এ তিনি হাতে তুলে নেন জোড়াফুল। তার আগে ২০১১–তে তৃণমূলের সঙ্গে জোট ছিল কংগ্রেসের। সে বার এখানে জিতেছিলেন কংগ্রেসের সৌমিত্র খাঁ। পরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। ২০১৪–র লোকসভা ভোটে বিষ্ণুপুরে জিতে তিনি পা রাখেন সংসদে। তার কিছু দিনের মধ্যে জোড়াফুল ছেড়ে চলা যান গেরুয়া শিবিরে। মাঝে ২০১৪–তে কোতুলপুরে উপনির্বাচনে জেতেন তৃণমূলের শ্যামল সাঁতরা। না, তিনি দল ছাড়েননি। ২০১৬–তেও জোড়াফুল প্রতীকেই তিনি এখানে জেতেন।
এ বার কোতুলপুরে লড়াই চতুর্মুখী। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আর রয়েছেন বিজেপির লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার, সিপিএমের রামচন্দ্র রায় ও কংগ্রেসের সুমিত্রা মল্লিক সাঁতরা। চার প্রার্থীর মধ্যে তৃণমূলের হরকালী, বিজেপির লক্ষ্মীকান্ত ও সিপিএমের রামচন্দ্র— তিন জনই স্কুলে পড়ান। তবে ভোটারদের বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, গত বারে জয়ী বিজেপি প্রার্থীর দলবদল তাঁরা মেনে নিতে পারেননি। তৃণমূল সেই হরকালীকে ফের দাঁড় করানোয় স্থানীয়দের এই ক্ষোভ যেন চোরাস্রোতের মতো বইছে কোতুলপুরে। তাঁরা বলছেনও, ‘লড়াই এখানে হাড্ডাহাড্ডি হবে।’
এলাকাবাসীর কথায়, কোতুলপুরে রাস্তাঘাট ভালো হয়েছে, পানীয় জলের সমস্যাও তেমন নেই। কিন্তু কংসাবতী সেচখালের আমুল সংস্কার দরকার। বাঁকুড়া-কলকাতা অহল্যাবাই রোড ফোর লেন করা প্রয়োজন। এই বিধানসভা এলাকার মধ্যে রয়েছে জয়পুরের জঙ্গল, তাকে ঘিরে পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে এখানে আরও বনসৃজনের উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষিপ্রধান কোতুলপুরে প্রধান ফসল আলু। এলাকায় যা হিমঘর আছে, তা পর্যাপ্ত নয়। এলাকায় নদীভাঙন রোধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিদায়ী বিধায়ক ও তৃণমূলের প্রার্থী হরকালী অবশ্য বললেন, ‘গত পাঁচ বছরে আমার বিধায়ক তহবিলের টাকায় এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পেও বহু কাজ হয়েছে। সেই উন্নয়নের নিরিখেই মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেবেন।’ বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্তর পাল্টা দাবি, ‘প্রকৃত উন্নয়নের স্বার্থে কোতুলপুরের মানুষ এ বার বিজেপির পক্ষে রায় দেবেন।’ সিপিএমের প্রার্থী রামচন্দ্রর বক্তব্য, ‘চাষিরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না। প্রতিশ্রুতি দিলেও কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করেনি। ফলে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলের উপরেই মানুষ বিরক্ত। প্রচারে যা সাড়া পেয়েছি, আমরা আশাবাদী, মানুষ এ বার আমাদের উপরেই ভরসা রাখবেন।’