দিব্যেন্দু সরকার, আরামবাগ
ভোটের আগে হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি বাড়ছে প্রাকৃতিক তাপমাত্রাও। যে কোনও বড় পরীক্ষার আগে সুস্থ থাকাটা যেমন পড়ুয়াদের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ, ঠিক তেমনটাই ভোটের আগে প্রার্থীদের কাছেও। সময় কমে আসছে বলেই প্রচারে সময়ও অনেক বেশি করে দিতে হচ্ছে। শরীর সুস্থ রেখে এই তীব্র রোদ্দুরে সেই প্রচারকাজ চালানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। সারা বছর যাঁর যেমন খাদ্যাভ্যাসই থাকুক না কেন, এই সময়ে মেনুতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে সবাইকেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হালকা খাবারই বেছে নিচ্ছেন প্রার্থীরা। খাচ্ছেন অল্প অল্প করে, বারে বারে। প্রচারের ফাঁকে একটু জিরিয়ে নিয়ে অল্প কিছু খেয়ে ফের দৌড় শুরু। মাঝখানের এই সময়ে প্রার্থীদের অধিকাংশেরই ভরসা ডাবের জল কিংবা টক দই।
গোঘাটের তৃণমূল প্রার্থী নির্মল মাজি যেমন ব্রেকফাস্টে বেছে নিয়েছেন লিকার চা, বিস্কুট অথবা একমুঠো মুড়ি। এর পরে প্রচার চলাকালীন নুন–লেবুর জল, ডাব। মাঝেমধ্যে লিকার চা। দুপুরে কখনও বিউলির ডাল, আলু ভাতে, উচ্ছে ভাজা, পোস্ত, মাছ দিয়ে হালকা সবজির ঝোল। অন্য দিকে, আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগের প্রতি দিনই প্রচার, মিছিল চলছে এই রোদের মধ্যেই। রয়েছে সংসারের কাজও। তিনিও লাগাম টেনেছেন খাবারদাবারে। সকাল হলেই বাড়ির কাজকর্ম সেরে, পরিবারের সবার জোগাড় করে, স্নান–পুজো করে বেরোচ্ছেন মিতা। কিন্তু তার আগে পান্তা ভাত, আলু সিদ্ধ, পিঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা দিয়ে মেখে খেয়ে বেরোচ্ছেন। প্রচারের ফাঁকে ফাঁকে দলীয় কর্মীদের আনা ডাব খাচ্ছেন। মাঝেসাঝে টক দই। দুপুরে ভাত, ডাল, শাক–সবজির ঝোল। তবে আরামবাগের বিজেপি প্রার্থী হেমন্ত বাগ বলেন, ‘সকালে জলমুড়ি খাই। প্রচণ্ড রোদ। তাই ভাত খাই, হালকা ঝোল, টক দই, মাছ। কোনও দিন দু’টুকরে চিকেন। রাতে আর খাওয়ার ইচ্ছে তেমন থাকে না। তাই জল দিয়ে মুড়ি খাই।’ পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ বলেন, ‘টক দই, নুন–লেবুর জল, ভাতের সঙ্গে প্লেন সবজির ঝোল। রাতে জলঢালা ভাত বা শুকনো মুড়ি। এর মাঝে ডাব, লিকার চা, বা টক দই খাই। এত গরম, রিচ কিছু খেতে ইচ্ছেই করে না। তবে নুন–লেবুর জলটা বেশি খাই।’
তাঁরই প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের প্রার্থী পার্থ হাজারিও খাচ্ছেন হালকা খাবারই। সকালে চা, জলমুড়ি। দুপুরে প্রচারের পরে সবজির ঝোল, মাছ, ভাত, শশা, টক দই। সারাদিন কাজের শেষে রাতে খিদে থাকে না তাঁরও। তাই জল ঢেলে মুড়ি খান শুধু। গোঘাটের বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগর বেশি করে জল খান। ছোলা–মুড়ি, চা দিয়ে দিন শুরু। দুপুরে প্লেন সবজির ঝোল, মাছ, কোনও দিন চিকেন, সঙ্গে টক দই মাস্ট। তারকেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী সন্তু পান বলেন, ‘আমার খাবার নির্ভর করে আমার কর্মীদের উপরে। সকালে চা, মুড়ি, শশা এই সব। দুপুরে যে এলাকায় প্রচার থাকে, সেই এলাকায় কর্মীদের বাড়িতেই খেয়ে নিই। ভাত, ডাল, শাক–সবজি। কর্মীরা যা খাওয়ান, তাই খাই। বিকেলে বা সন্ধ্যায় খিদে পেলে টুকটাক চা, মুড়ি। রাতে ভাতই খাই। যাঁরা আমার সঙ্গে থাকেন, তাঁদের কাছেই খেয়ে নিই। দিনের বেলায় গরমে ঠিক থাকার জন্য টক দইটা অবশ্যই খাই।’
খানাকুলের বিজেপি প্রার্থী সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘সকালে মুড়ি, চা, টুকটাক। দুপুরে ভাত, শাক–সবজি, ডাল, মাছ, কখনও মাংস তিন–চার টুকরো। রোদে ঠিক থাকার জন্য ডাব, টক দই। রাতে ভাত, ডাল, সবজি। বলাগড়ের প্রার্থী রঞ্জন ধাড়ার মেনুতে দুপুরে ভাত, ডাল, আলু পোস্ত। কখনও মাছ, কখনও চিকেন। প্রচারের ফাঁকে ডাব, লেবুর জল। বেচারাম মান্নার মেনুতে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ মুড়ি, ছোলা সিদ্ধ। সঙ্গে শসা, কলা। দুপুরে ভাত, টক ডাল, ছোট মাছ। যে কোনও সবজি, শেষে কাঁচা আমের টক। সপ্তগ্রামের প্রার্থী বিদেশ বসুর মেনুতে অবশ্য ডিমেরও দেখা মিলল। দুপুরে ভাত, ডাল,সবজি সঙ্গে মাছের কারি, ডিম, চিকেনের যে কোনও একটা।